Breaking News

 

kolkata

1 hour ago

Mamata Banerjee : ‘ইভিএমে কারচুপি করার পরিকল্পনা চলছে’, অভিযোগ তুলে ধর্নামঞ্চে বিজেপি-কমিশনকে কড়া বার্তা মমতার

Mamata Banerjee
Mamata Banerjee

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দিল্লি থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার দিনভর রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভোটের প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের এই সফরের মধ্যেই কলকাতার ধর্মতলায় ধরনামঞ্চ থেকে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মমতার অভিযোগ, ”এরা রাজনৈতিকভাবে কিছু করতে পারেনি বাংলায়। তাই চক্রান্ত করে এসআইআর করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে। ইভিএম-এ কারচুপি করবে বলে আমি খবর পেয়েছি। আমরা সেইমতো আগাম সতর্কতা নেব।” বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর আরও কটাক্ষ, ”গণতন্ত্রে গ্রহণ লাগিয়েছে এরা।” তুললেন নয়া স্লোগান – ‘যতই ডাকো ইডি সিবিআই, ছাব্বিশে ভোটে হবে বাই বাই।’

এসআইআরের পরও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এই মুহূর্তে রাজ্যে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা অন্তত ৫০ লক্ষ। যথাযথ নথিপত্র দেওয়ার পরও নাম বাদ পড়েছে অনেকের। আর তাতেই প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে শাসকদল তৃণমূল। ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি নিয়ে শুক্রবার থেকে ধর্মতলায় ধরনায় বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই থেকে তিনি নিজে ধরনামঞ্চেই রয়েছেন। সোমবার সেখান থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে মমতার আক্রমণ, ”বেচারা ভ্যানিশ কুমার। ভ্যানিশ করে দেবে সব! ভ্যানিশিং পাউডার। অনেককে ধমকেছে। বলছেন, মে মাসের পরও অ্যাকশন নেবেন। আমি বলি, মে মাসের পর আপনি থাকবেন তো চেয়ারে? শুনলাম, আজ নাকি বৈঠকে বাংলার অফিসারদের থ্রেট করেছেন।”

মমতার আরও বক্তব্য, ‘‘অনেকে মারা গেছেন। তাঁদের জন্য একটা কথাও বলেননি। মৃত আত্মাগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর জবাব নিজের মধ্যে পাবেন। ভোটের আগে আপনারা ভোট কেড়েছেন। কেন করছেন? এআই দিয়ে ভোটারদের নাম-ঠিকানা কেটেছেন। আপনার ব্রেনও ওই এআই খাবে।” এরপর সতর্ক করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ”কয়েকটা বিষয় দেখতে হবে। ভোটারদের নাম কাটা যাচ্ছে কি না, ইভিএম মেশিন কারচুপি। সিরিয়াসলি দেখতে হবে। ইভিএমে কারচুপি করবে বলে খবর পেয়েছি। আগে ওদের রেজাল্ট দেখাবে। মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাতে যায়, আর অফিসারদের ম্যানিপুলেশন করতে পারে। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করছি, মানুষের ভোটে যদি জিততে চান মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিন। আর আমাদের কিছু চাই না। একটাই কথা – যাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন তাঁরা সবাই ভারতীয়, ভোটাধিকার তাঁদের ফিরিয়ে দিন।” 


পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে সদ্য সরে দাঁড়িয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২০ মাস আগেই তাঁর এই পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এবং সামনে বিধানসভা নির্বাচন, সেই সময় হঠাৎ করেই রাজ্যপাল পদ থেকে তাঁর সরে যাওয়া নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।কেন ভোটের আগে রাজ্যপাল পদ থেকে সরানো হল বোসকে? “ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। এর কারণ জেনেই ছাড়ব।” এদিন ধর্মতলার মঞ্চ থেকে জানালেন তৃণমূল নেত্রী। প্রসঙ্গত, এসআইআরের প্রতিবাদে কলকাতার ধর্মতলায় ধরনা চালাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে রয়েছেন অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্ব। 

ভোটের আগে আচমকা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তিনি কোনও চাপের মুখে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন চর্চা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে বিজেপির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। কিন্তু এর মাঝে রবিবার কলকাতায় ফিরে এনিয়ে মুখ খুলেছেন সিভি আনন্দ বোস নিজেই। গতকাল দমদম বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে কিছুটা দার্শনিক সুরেই বলেন, “এটা আমার সচেতন সিদ্ধান্ত। এটাই বিদায় নেওয়ার সঠিক সময়। একজন গেলে তবেই তো আরেকজন আসবে।” বাংলার নতুন রাজ্যপাল হিসেবে কাজে যোগ দেবেন আরএন রবি। আগামী বুধবার তিনি বাংলায় আসবেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

কেন রাজ্যপাল পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসকে সরানো হল? সেই প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিভি আনন্দ বোসের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আজ, সোমবার সন্ধ্যায় ধর্মতলার ধরনামঞ্চ থেকে আরও একবার বোস ইস্যুতে সরব হলেন তিনি। লোকভবন বিজেপি ভবন হবে, বলে মমতা এদিন কটাক্ষ করেছেন। সেখান থেকে টাকা পাচার হবে! এমন প্রশ্নও তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। সে কারণে বোসকে সরানো হল বলেও মনে করছেন তিনি।এদিন মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। “ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।” সেই কথা বলতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। কী কারণে সিভি আনন্দ বোসকে বাংলার রাজ্যপাল পদ থেকে সরানো হল? সেই কারণ তিনি নিজেই খুঁজে বার করবেন। সেই কথাও জোর গলায় এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

You might also like!