
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মাসের প্রথমে বেতন হাতে পেলেই অনেকের মনে হয়, এবার আর টাকার টানাটানি হবে না। পরিকল্পনাও করা হয় নানা খরচের। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, মাসের মাঝামাঝি যেতে না যেতেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যালান্স কমতে শুরু করে, আর পকেটও প্রায় খালি হয়ে যায়। ফলে মাসের শেষদিকে পড়ে যেতে হয় চরম আর্থিক চাপে। আয় কম হোক বা বেশি—এই সমস্যার মুখে পড়েন অনেকেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত কিছু সাধারণ আর্থিক ভুল এবং অনিয়ন্ত্রিত খরচের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। মাসের শুরুতেই অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা, খরচের কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকা কিংবা সঞ্চয়ের অভ্যাস না থাকা—এই সব কারণেই দ্রুত ফুরিয়ে যায় বেতনের টাকা।
∆ নীচে এমনই কয়েকটি সাধারণ ভুলের কথা তুলে ধরা হল—
১. বাজেট না বানিয়ে খরচ শুরু করা: হাতে বেতন পেয়েই খরচ শুরু! কিন্তু কোথায় কত খরচ হচ্ছে তার কোনও হিসেব রাখেন না। ফলে মাসের শেষ দিকে গিয়ে টের পাওয়া যায় টাকা প্রায় শেষ। তাই মাসের শুরুতেই আয়-ব্যয়ের একটা পরিকল্পনা করা জরুরি। হয়, ডায়েরিতে লিখে রাখতে হবে, নয়তো প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ফোনে বিভিন্ন অ্যাপে মাসের বাজেট করতে হবে। সেই মতো খরচ করতে হবে।
২. যখন-তখন কেনাকাটা করা: অনলাইনে বা দোকানে দেখে হঠাৎ কিছু কিনে ফেলার ইচ্ছে হয়। ছোট ছোট এই খরচগুলি মিলেই মাসের শেষে বড় অঙ্কে পৌঁছে যায়। সে সবের হিসেব করাও হয় না। অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমানো তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ বদল। সত্যিই খুব দরকারি কি না, তা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
৩. বেতন বাড়লেই জীবনযাত্রা বদলে ফেলা: অনেকের বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খরচও বেড়ে যায়। এত দিন যা অপ্রয়োজনীয় ছিল, তা হঠাৎ প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। নতুন ফোন, দামি খাবার বা অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন, আরও কত কী! এই অভ্যাসে যাপনই বদলে ফেলেন অনেকে। ফলে আয় বাড়লেও সঞ্চয় বাড়ে না।
৪. সঞ্চয়ের পরিকল্পনা না থাকা: অনেকে মনে করেন মাসের শেষে যা থাকবে, তা সঞ্চয় করবেন। কিন্তু মাসশেষে খুব কমই টাকা হাতে থাকে, বা একেবারেই থাকে না। তাই বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু টাকা আলাদা করে রাখার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
৫. জরুরি তহবিল না রাখা: হঠাৎ অসুস্থতা, চাকরির সমস্যা বা অন্য কোনও জরুরি খাতে খরচের প্রয়োজন পড়ে গেলে আর কুল পাওয়া যায় না। যদি আগে থেকে আলাদা টাকা না রাখা থাকে, তা হলে বড়সড় বিপদে পড়তে পারেন। তাই ছোট করে হলেও একটি জরুরি সঞ্চয় তৈরি করা দরকার।
সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতা থাকলে মাসের শেষেও পকেট ফাঁকা হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। তাই এখন থেকেই যদি খরচের অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনা যায়, তবে আর মাসের শেষের টানাপোড়েনের মুখে পড়তে হবেনা।
