West Bengal

3 hours ago

TMC : তৃণমূল নিয়ে কটাক্ষের মাঝেই এনডিএ প্রসঙ্গে সুদীপের মন্তব্যে চর্চা তুঙ্গে

Sudip Bandyopadhyay And Amit Shah
Sudip Bandyopadhyay And Amit Shah

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই লোকসভার অন্দরে কি দেখা যাবে ‘তৃণমূল বনাম তৃণমূল’ সংঘাতের ছবি? এই প্রশ্নেই এখন সরগরম দিল্লির রাজনৈতিক মহল। সংসদীয় অঙ্ক ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের টানাপোড়েন।

 গত শনিবার দিল্লিতে শাহের সঙ্গে প্রায় সত্তর মিনিটের বৈঠকে বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানেই তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের প্রসঙ্গ উঠলে শাহ নাকি স্পষ্ট বার্তা দেন-বাংলার মানুষ জোড়াফুল প্রতীকের উপর আস্থা হারিয়েছে। তাই প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াইয়ে শক্তি নষ্ট না করে ‘তৃণমূল’ নামের রাজনৈতিক গুরুত্বকেই সামনে রাখা উচিত। সেই পরামর্শ মেনেই আপাতত প্রতীকের প্রশ্নে সংঘাতে না গিয়ে দলীয় নামের দাবিকে অস্ত্র করতে চাইছে বিদ্রোহী শিবির। সোমবার দিল্লিতে কার্যত সেই কৌশলেরই ইঙ্গিত দিলেন সুদীপ। তাঁর বক্তব্য, “২০ জুলাই সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। তখন তৃণমূল কংগ্রেসের নামে একটি দল আসবে। আমাদেরও বলার থাকবে, আমরাই তৃণমূল কংগ্রেস। গোনা হোক।” একই সঙ্গে তাঁর দাবি, শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের নিষ্পত্তি আদালতেই হবে। এমনকি তাঁর অনুমান, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন জোড়াফুল প্রতীকও ‘ফ্রিজ’ হয়ে যেতে পারে।

বাদল অধিবেশনের শুরুতেই লোকসভার অন্দরে ‘দুই তৃণমূল’ বিতর্ক দেখা দিতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই লোকসভা সচিবালয়ের অন্দরেও শুরু হয়েছে প্রাথমিক ভাবনাচিন্তা।সূত্রের খবর, দুই পক্ষই যদি নিজেদেরই তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করে, তাহলে সংসদীয় স্বীকৃতি, দলীয় পরিচয় ও আসন বিন্যাস কীভাবে নির্ধারণ করা হবে—তা নিয়ে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের মতামত চাওয়া হতে পারে। বিষয়টি জটিল আকার নিলে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করার পথও খতিয়ে দেখা হবে।এই পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি পর্ব শেষ করে তিনি জানান, “প্রথম পর্যায় শেষ। এবার যা কিছু হবে কলকাতায় ফিরে।” পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, আপাতত নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। তাঁর দাবি, দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়াতেই তাঁরা বর্তমানে ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া-এর সঙ্গেই রয়েছেন। একই সঙ্গে রসিকতার সুরে তিনি বলেন, “এই দলের নাম আগে কোনও দিন শুনিনি।”

এনডিএ শিবিরে বর্তমানে বিজেপির পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক এনসিপিআই। ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সুদীপের জায়গা হতে পারে বলেও জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও তা উড়িয়ে দিয়ে তাঁর মন্তব্য, “প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবর সর্বৈব অসত্য।” নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির কৃতিত্বও নিজের কাঁধে নিতে চাননি তিনি। বরং দাবি করেছেন, “আমি কুড়িতম সাংসদ হিসেবে স্বাক্ষর করেছি। কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়ই এই প্রক্রিয়ায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন।” আগামী ২১ জুলাই শহিদ দিবসের ঠিক আগের দিন শুরু হতে চলা বাদল অধিবেশনের আগে তাই রাজনৈতিক মহলের নজর এখন একটাই প্রশ্নে-লোকসভার অন্দরেই কি শুরু হতে চলেছে ‘আসল তৃণমূল’ নিয়ে শক্তিপরীক্ষা? 

You might also like!