Entertainment

1 hour ago

Aanchal Khurana: ‘শয্যাসঙ্গিনী না হলে কাজ নেই!’ টেলি ইন্ডাস্ট্রির তরুণী অভিনেত্রীর মৃত্যুর পর বিস্ফোরক অভিযোগে সরব আঁচল

Aanchal makes explosive remarks about the industry following Sanchita's death
Aanchal makes explosive remarks about the industry following Sanchita's death

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  মুম্বইয়ের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে ফের উঠে এল গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অস্বস্তিকর বাস্তবের ছবি। বছর বাইশের তরুণী অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগালের আত্মহত্যার ঘটনার পর গোটা বিনোদন জগৎ যখন শোকস্তব্ধ, তখনই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের নানা অন্ধকার দিক নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী আঁচল খুরানা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে কর্মক্ষেত্রের চাপ, মানসিক অবসাদ, অনৈতিক প্রস্তাব এবং শিল্পীদের প্রতি চরম অবহেলার অভিযোগ। 

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি আবেগঘন ভিডিওবার্তায় আঁচল খুরানা বলেন, একজন তরুণ শিল্পীর জীবন এভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ইন্ডাস্ট্রি আত্মসমালোচনার পথে হাঁটছে না। তাঁর কথায়, দর্শকের বিনোদনের চাহিদা, চ্যানেলের টিআরপি-র লড়াই এবং প্রযোজকদের মুনাফাকেন্দ্রিক মানসিকতার মাঝে শিল্পীদের ব্যক্তিগত যন্ত্রণা ও মানসিক স্বাস্থ্য প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়। আঁচল একরাশ যন্ত্রণা নিয়ে বলেন, “আরও এক অভিনেত্রী আত্মঘাতী হল। চ্যানেলের টিআরপি চাই, প্রযোজকরা বাজেট বাঁচাতে মরিয়া আর অন্যদিকে দর্শক চায় ফুল অন বিনোদন। এর মাঝে কেউ কখনও ভেবেছে একজন অভিনেতা-অভিনেত্রীর উপর দিয়ে কোন জড় বয়ে যায়!” ‘বোবার কোনও শত্রু নেই’ এই প্রবাদ উসকে আঁচলের বিস্ফোরক দাবি, “আমাদের ইন্ডাস্ট্রির সহজাত শব্দ রিপ্লেসমেন্ট। শয্যাসঙ্গিনী হওয়ার বিরোধীতা করলে, আত্মসম্মান রক্ষার্থে কিছু বললে বা কারও সঙ্গে তর্কে জড়ালেই কাজ থেকে ছাটাই করা হয়। একজন শিল্পী যখন আত্মঘাতী হয় তখন নেপথ্য কারণগুলো কেউ ভেবে দেখে না।” 


অভিনয় জগতের কঠিন বাস্তবের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “প্রতিদিন সকালে নতুন আশা নিয়ে ঘুম থেকে উঠি, অডিশন দিতে যাই আর প্রতিরাতে প্রত্যাখ্যানের যন্ত্রণা নিয়ে ঘুমাতে যাই। সকলে মনের জোর বাড়ানোর পরামর্শ দেয়। কিন্তু, বাস্তবে সেটা কতদিন সম্ভব?” প্রযোজক ও চ্যানেলগুলোর প্রতি ক্ষোভ উগরে বলেন, “লাভ-ক্ষতির বাইরে কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভালো অডিশন দেওয়ার পরও খুব সামান্য টাকার কারণে আপনাকে বাদ দেওয়া হতে পারে। আবার কেউ যদি অনৈতিক আপস করতে রাজি না হন তাহলেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আমি নিজে এমন পরিস্থিতির শিকার। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি যখন মনে হবে হতাশা জীবনকে গ্রাস করে নিচ্ছে তখন বাড়ি ফিরে যান। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। আমিও প্রচণ্ড চাপ ও মানসিক উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম। তখন প্রযোজক বা চ্যানেল কেউ পাশে থাকবে না।” 

সঞ্চিতা উগালের মৃত্যুর তদন্ত চললেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে এসেছে বিনোদন জগতের অস্বস্তিকর কিছু প্রশ্ন। গ্ল্যামারের ঝলকানির আড়ালে শিল্পীদের মানসিক স্বাস্থ্য, কর্মপরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিয়ে যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে, আঁচল খুরানার বক্তব্য সেই বিতর্ককেই আরও উসকে দিল। এখন দেখার, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইন্ডাস্ট্রির ভিতরে কোনও আত্মসমালোচনা বা পরিবর্তনের উদ্যোগ দেখা যায় কি না।

You might also like!