
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬-এর মহারণ ঘিরে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। রবিবার সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে ‘পরিবর্তন’-এর ডাক দিয়েছিলেন।শনিবারের মতো এ বারেও কালবিলম্ব না করে বক্তৃতা থামিয়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অসুস্থ বৃদ্ধার বিশ্রামের জন্য খুলে দিলেন নিজের গা়ড়ির দরজা। চিকিৎসক আনিয়ে দ্রুত তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন।
রবিবার দুপুরে চাপড়ায় তৃণমূলের রোড শো চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন এক বৃদ্ধা। সে সময় হুডখোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে জনতাকে অভিবাদন জানাচ্ছিলেন অভিষেক। রাস্তায় তখন তিল ধারণেরও জায়গা নেই। ঠিক তখনই ভিড়ের চাপে ওই বৃদ্ধা হঠাৎ অচৈতন্য হয়ে পড়েন। বিষয়টি চোখে পড়ামাত্র বক্তৃতা থামিয়ে দেন অভিষেক। বৃদ্ধার প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেক বলেন, ‘‘ওঁকে জল দাও। আমার জলের বোতলটা দাও। মুখে জল দাও। সবাই শান্ত থাকুন, একটু জায়গা করে দাও ভাইয়েরা। ওঁকে বার করে কোথাও বসানোর ব্যবস্থা করো তাড়াতাড়ি। না থাকলে আমার গাড়ির ভিতরে বসাও।’’ শেষমেশ ওই বৃদ্ধাকে অভিষেকের গাড়িতেই বসানো হয়। কনভয়ে থাকা চিকিৎসককে আনিয়ে বৃদ্ধার প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। কিছু ক্ষণ বিশ্রামের পর খানিক সুস্থ বোধ করেন ওই বৃদ্ধা। ভাষণ শেষের মুখে আরও একবার তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন অভিষেক।
উপস্থিত জনতার অনেকেই গোটা ঘটনা মোবাইলবন্দি করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, “নেতা তো অনেকেই হন, কিন্তু এমন ঘরের ছেলের মতো পাশে দাঁড়ানোর মানুষ ক’জন আছেন?” এই ঘটনার জেরে কিছু ক্ষণ রোড শো থমকে থাকলেও তা নিয়ে সমর্থকেরা কেউ বিরক্ত হননি। বরং প্রিয় নেতার এই ‘মানবিক মুখ’ দেখে রীতিমতো আপ্লুত কর্মী-সমর্থকেরা!

রাজনীতির ময়দানে আক্রমণাত্মক সেনাপতি হলেও এই নিয়ে পর পর দু’দিন জনসভায় নিজের মানবিক রূপ দেখালেন অভিষেক। শনিবারও মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোড শো চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এক ব্যক্তি। পরে জানা গিয়েছিল, তিনি হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখ। অভিষেকের বক্তৃতা চলাকালীন সভাস্থলেই মাথা ঘুরে পড়ে যান নিয়ামত। সে সময়েও বক্তৃতা থামিয়ে দ্রুত ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন অভিষেক। উপস্থিত জনতার সহযোগিতায় প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় অসুস্থ বিধায়ককে।
২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই নদিয়ার চাপড়া থেকে সেই আক্রমণের পাল্টা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর সাফ কথা, “বাংলায় সরকারের পরিবর্তন স্বপ্নই থেকে যাবে, বরং ভোটের পর বিজেপি নেতাদেরই পরিবর্তন হয়ে যাবে।”
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে প্রচারে ঝাঁপিয়েছে সব দল। জেলায় জেলায় ঘুরে রণসংকল্প সভা করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় বিজেপির মাটি শক্ত করতে খোদ প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসেছেন। রবিবার সিঙ্গুরে একাধিক সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাল ও উদ্বোধনের পাশাপাশি রাজনৈতিক সভা করেন মোদি। সেখানেই বাংলা থেকে তৃণমূল সরকারকে উৎখাতের ডাক দেন। বলেন, তৃণমূল চলে গেলে তবেই বাংলায় শিল্প ও কর্মসংস্থান হবে। চাপড়া থেকে তারই পালটা দিলেন অভিষেক। তিনি বলেন, “আপনি ঠিক বলছেন। পালটানো দরকার। পরিবর্তন দরকার। পরিবর্তন হবে আপনাদের। যারা জয় শ্রীরাম বলে সভা শুরু করত, তাঁরা জয় মা কালী, জয় মা দূর্গা বলছে। বিজেপির জল্লাদদের কাছে বাংলা মাথা নত করবে না। কেউ পালটালে জনতা পার্টির নেতারা পালটাবে।”
এদিন ফের কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে ফের সরন হন অভিষেক। তিনি বলেন, “ওনারা বাংলার মানুষকে সব কিছু কেড়ে নিয়ে শাস্তি দিতে চাইছে। আপনারা জল, মাথার ছাদ, ১০০ দিনের কাজের টাকা, ভোটাধিকার, সব কেড়ে নিতে চান। আপনি রাস্তার প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রাস্তাশ্রী প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। আপনি ১০ পয়সাও দেননি। কিন্তু বাংলা আটকে নেই।” চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে অভিষেক বললেন, “আপনার ঔদ্ধত্য ভাঙবেই।”
