
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: আইপ্যাক-কাণ্ডে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হল বিচারব্যবস্থার অঙ্গনে। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে সাসপেন্ড করার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুধু রাজীব কুমার নন, আইপ্যাক সংক্রান্ত তল্লাশির সময় যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, সেই সব শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে। এমনকী এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং বিভাগকে হস্তক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কিছু নথি সঙ্গে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, ওই নথিগুলি তাঁর দলের অভ্যন্তরীণ কাগজপত্র এবং নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইল। সেসব ছিনতাইয়ের ষড়যন্ত্র করেছে ইডি, এই অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দলের স্বার্থে তিনি সেসব ফাইল সঙ্গে নিয়ে গেলেন। যা নিয়ে ইডির সঙ্গে সংঘাতের সূত্রপাত।
পরবর্তীতে বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। ইডির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পুরনো কয়লা পাচার মামলার সূত্রেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছিল এবং সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে তদন্তে বাধা দেন। পাশাপাশি, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতা পুলিশের তৎকালীন কমিশনার মনোজ বর্মা-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক মুখ্যমন্ত্রীকে সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগ তোলে ইডি। এই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে দুটি মামলা দায়ের হয়—একটি ইডির তরফে এবং অন্যটি আলাদাভাবে ইডির তিন আধিকারিকের পক্ষ থেকে। আজ বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি রয়েছে। তার আগেই ইডির নতুন আবেদন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে। মামলার রায় কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।
