
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের চাহিদাও বদলে যায়। বিশেষ করে ষাটোর্ধ্ব বাবা-মায়ের যদি ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের সমস্যা থাকে, তা হলে প্রতিদিনের খাবার তালিকায় বাড়তি সতর্কতা জরুরি। শুধু সময়মতো ওষুধ খেলেই চলবে না, তার পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক ও সুষম খাদ্যাভ্যাস। ধরা যাক, কোনও ষাটোর্ধ্ব পুরুষের ওজন ৬৫ থেকে ৭০ কিলোগ্রামের মধ্যে। তাঁর যদি সুগার, প্রেসার বা হার্টের সমস্যা থাকে, তা হলে অতিরিক্ত তেল-মশলাদার, ভাজাভুজি বা প্রক্রিয়াজাত খাবার একেবারেই এড়ানো উচিত। কিন্তু তাই বলে কি মুখের স্বাদ বন্ধ থাকবে? একেবারেই নয়। প্রয়োজন শুধু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খাবার বেছে নেওয়া।
∆ বিকেলের জলখাবারে কী দেবেন?
বয়স্কদের বিকেলে চা-নাশতার ইচ্ছে থাকেই। সেই সময় চপ, কাটলেট বা বিস্কুটের বদলে দেওয়া যেতে পারে—
* মাখানার ক্ষীর: প্রোটিন,ক্যালশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ মাখানা দিয়ে যদি পায়েস বানান, তা খেতে হবে একদম বাঙালি বাড়ির ক্ষীরের মতোই। তবে তা হবে আরও স্বাস্থ্যকর। এই ক্ষীর খেলে সুগার বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না। এর জন্য কড়াইতে এক চামচ ঘি গরম করে এক কাপ মতো মাখানা ভাল করে রোস্ট করে নিন। এর পর চামচ দিয়ে ভাল করে মাখানাগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে নিন। এর সঙ্গে চার কাপের মতো দুধ মিশিয়ে ভাল করে ফোটান। ১৫-২০ মিনিট কম আঁচে ফোটালে পায়েস ঘন হয়ে যাবে।
* নারকেলের বরফি: চিনি দেওয়া বরফির বদলে নারকেলের বরফি অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এতে কিন্তু কৃত্রিম চিনি মেশাবেন না। বদলে গুড় দিতে পারেন। এটি বানাতে উপকরণ বেশি লাগবে না। আধ খানা নারকেল, সামান্য ঘি, ২ চামচের মতো গুড় ও কিছু ড্রাই ফ্রুট্স।
* চিজ়ের সঙ্গে আনারসের স্ন্যাক্স: খুবই সহজ বানানো। আধ কাপের মতো চিজ় নিয়ে তার সঙ্গে আনারসের টুকরো মিশিয়ে নিন। উপরে এক চিমটে দারচিনির গুঁড়ো ছড়িয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। খিদে পেলে এই স্ন্যাক্স খেতে পারেন। খেতেও সুস্বাদু হবে এবং ভাজাভুজি ও মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতাও কমবে।
* ওট্স দিয়ে দই বড়া: ওট্স গুঁড়ো করে তার সঙ্গে সামান্য সুজি, টক দই ও জল মিশিয়ে ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। ইডলি মেকারে বা ছোট বাটিতে অল্প অল্প করে ব্যাটার দিয়ে ভাপে সেদ্ধ করে নিন। এ বার বড়াগুলি ঠান্ডা হলে তার উপর আরও কিছুটা ফেটানো টক দই, তেঁতুলের চাটনি ও চাট মশলা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
প্রবীণদের জন্য খাবার মানেই নিস্বাদ বা নিরামিষ নয়। বরং সঠিক উপায়ে রান্না করলে স্বাস্থ্যকর খাবারও হতে পারে সুস্বাদু। পরিবারের দায়িত্ব হল, তাঁদের রুচির কথা মাথায় রেখে এমন খাদ্যতালিকা তৈরি করা, যা শরীরের উপকার করবে এবং মনও ভালো রাখবে।
