Health

1 hour ago

Health Alert: ঋতু পরিবর্তনের প্রভাবে জ্বর না জলবসন্ত? জেনে নিন চিকেন পক্সের উপসর্গ ও সতর্কতা

Chickenpox
Chickenpox

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ঋতু পরিবর্তনের সময় নানা ধরনের ভাইরাসঘটিত অসুখ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এই সময়েই বাড়তে দেখা যায় চিকেন পক্স বা জলবসন্তের সংক্রমণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ভ্যারিসেল্লা জস্টার’ ভাইরাসের সংক্রমণে হওয়া এই রোগ অত্যন্ত ছোঁয়াচে। ফলে পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে অন্যদের মধ্যেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

চিকেন পক্সে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তাই প্রথমেই আলাদা ঘরে রেখে যতটা সম্ভব বিচ্ছিন্ন রাখা জরুরি। কারণ এই ভাইরাস মূলত বায়ুর মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি, লালা কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বিশেষ করে বাড়িতে শিশু বা বয়স্ক কেউ থাকলে তাদের রোগীর কাছ থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।  অনেক সময় ত্বকে র‍্যাশ বা অ্যালার্জি হলেও অনেকে সেটিকে চিকেন পক্স বলে ভুল করেন। কিন্তু আসলে এই রোগের কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে। সাধারণত ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে প্রথমে জ্বর, মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং খাওয়ার ইচ্ছা কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কয়েক দিন পরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট জলভরা ফোস্কার মতো র‍্যাশ বেরোতে শুরু করে, যা চিকেন পক্সের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। 

কিছু ক্ষেত্রে জ্বরের পাশাপাশি গলাব্যথা, নিউমোনিয়া কিংবা এনসেফালাইটিসের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম, তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। চিকিৎসকদের মতে, চিকেন পক্স হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিকে পরিষ্কার ও আলো-বাতাস চলাচল করে এমন ঘরে রাখতে হবে। স্যাঁতসেঁতে বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এড়িয়ে চলাই ভালো। নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়ার বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

জ্বর বা শরীর ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। ত্বকের জ্বালা বা প্রদাহ কমাতে ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা উপকারী। কিছু ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধও দেওয়া হতে পারে। এছাড়াও এই সময় হালকা ও কম তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুললেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই রোগ থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।  

You might also like!