Odisha Durga Puja: দুর্গাপুজোয় রুপোর জাদু! কটকের ‘চণ্ডী মেধা’ কেন এত বিখ্যাত, জানেন কি?

Cuttack Durga Puja Chandi Medha 2026
Cuttack Durga Puja Chandi Medha 2026

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  দুর্গাপুজো মানেই চোখধাঁধানো মণ্ডপ, অপূর্ব শিল্পকলা আর প্রাচীন ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়ে ওড়িশার কটকেও পুজোর অন্যতম আকর্ষণ রুপোর তারকাসিতে সাজানো ‘চণ্ডী মেধা’। বিশাল আকারের এই মণ্ডপের সূক্ষ্ম নকশা ও কারুকাজ দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। স্থানীয় ভাষায় মণ্ডপের পটভূমি বা চালচিত্রকে বলা হয় ‘মেধা’। এর গঠন ও অলঙ্করণের ধরনে এমন এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অনেকটা মহরমের তাজিয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। ঐতিহ্য ও শিল্পসৌন্দর্যের এই অনন্য মেলবন্ধনই কটকের দুর্গাপুজোকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। 

কটকের এই বিখ্যাত উৎসবের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো: 

১. রুপোর তারকাসি বা ফিলিগ্রি শিল্প (Tarakasi Art): কটককে ভারতের "সিলভার সিটি" (Silver City) বলা হয়। এখানকার বিশ্বখ্যাত রুপোর তারকাসি (Filigree) শিল্পের প্রদর্শন ঘটে দুর্গাপুজোর মণ্ডপগুলোতে। কারিগরেরা রুপোর পাতলা তার দিয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দেবী দুর্গার মণ্ডপের বিশাল ব্যাকড্রপ বা চালচিত্র তৈরি করেন। এই রুপোর কাঠামোতে ময়ূর, ফুল-লতা এবং বিভিন্ন দেব-দেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়।

২. ঐতিহ্যের ইতিহাস:  • প্রথম চণ্ডী মেধা: কটকে রুপোর মেধা বা চালচিত্র তৈরির ঐতিহ্য শুরু হয় ১৯৫৬ সালে, বিখ্যাত চৌধুরী বাজার পুজো মণ্ডপ থেকে। তারা সে বছর প্রায় ২.৫ কুইন্টাল রুপো দিয়ে দেশের প্রথম চণ্ডী মেধা তৈরি করেছিল।

• সোনার ছোঁয়া (Suna Medha): সময়ের সাথে সাথে ঐতিহ্য আরও রাজকীয় রূপ নিয়েছে। চৌধুরী বাজার পুজো কমিটি বর্তমানে রুপোর পাশাপাশি প্রায় ৩৫ কেজি সোনা দিয়ে দেবীর মুকুট ও মেধার অংশবিশেষ মুড়ে দিয়েছে।

৩. বিশাল পরিমাণ রুপোর ব্যবহার ও প্রতিযোগিতা: কটকের বিভিন্ন পুজো কমিটির মধ্যে এই মেধা তৈরির একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা চলে। প্রতিটি মণ্ডপের চালচিত্র তৈরিতে সাধারণত ১৫০ কেজি থেকে শুরু করে ৪০০ কেজি পর্যন্ত খাঁটি রুপো ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে কটক শহরে প্রায় ৩৭টিরও বেশি পুজো মণ্ডপে দেবী দুর্গার পেছনে এই সুবিশাল রুপোর 'চণ্ডী মেধা' শোভা পায়। 

৪. ৪০০ বছরেরও প্রাচীন ইতিহাস: কটকের দুর্গাপুজোর ইতিহাস প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো। মনে করা হয়, ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে শ্রী চৈতন্যদেব কটকের বিনোদ বিহারী মন্দিরে প্রথম এই পুজো শুরু করেছিলেন। শহরের প্রাচীনতম পুজো মণ্ডপ হলো বালু বাজার । কটকের দুর্গাপুজো কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং আভিজাত্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।

কটকের প্রধান ৫টি চণ্ডী মেধা মণ্ডপ:

চৌধুরী বাজার : কটকের প্রথম এবং সবচেয়ে পুরোনো রুপো ও সোনার মণ্ডপ (সুনামেধা)।

শেখ বাজার : এটি তার বিশাল এবং সূক্ষ্ম ও নিখুঁত রুপোর তারকাসি কাজের জন্য বিখ্যাত।

মঙ্গলাবাগ : বিশাল আকৃতির রুপোর ব্যাকড্রপ এবং রাজকীয় সাজসজ্জার জন্য পরিচিত।

চাঁদনী চক : এখানে দেবী দুর্গার অলংকার ও মেধার নকশায় আধুনিক ও প্রাচীন শিল্পের মিশ্রণ দেখা যায়।

আলিশা বাজার : এখানকার রুপোর তৈরি বন্যপ্রাণী ও ময়ূরের নকশা অত্যন্ত জনপ্রিয়।

বিসর্জন শোভাযাত্রা ('ভাসানি যাত্রা'): বিজয়া দশমীর পরের দিন কটকে এক অনন্য বিসর্জন উৎসব বা 'ভাসানি যাত্রা' হয়। সব চণ্ডী মেধার মূর্তিগুলোকে একসঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, ঐতিহ্যবাহী নাচ ও আলোর রোশনাই সহকারে এক বিশাল শোভাযাত্রা বের করা হয়। এরপর পুরী ঘাটে মহানদী বা কাঠজোড়ি নদীতে দেবী প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।


শেয়ার করুন:

You might also like!