Breaking News

 

Anti-CEC protests: জ্ঞানেশ-বিরোধী আন্দোলন দুর্বল করতে তৎপর কেন্দ্র? বিরোধীদের পালটা ভাষ্য তৈরির কৌশল

PM Narendra Modi, Amit Shah and Kiren Rijiju, and Nitin Nabin
PM Narendra Modi, Amit Shah and Kiren Rijiju, and Nitin Nabin

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিরোধীদের বিক্ষোভ মোকাবিলায় একাধিক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার বলে দাবি করা হচ্ছে। বিক্ষোভের প্রভাব কমাতে আপাতত ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে কেন্দ্র। প্রয়োজন অনুযায়ী একদিকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, অন্যদিকে পরিস্থিতি বুঝে তাঁদের বড় মাঠে প্রতিবাদের সুযোগও দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, বিরোধীদের বক্তব্যের পালটা যুক্তি তুলে ধরে বিকল্প রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরির চেষ্টাও শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। 

নিট ইস্যুতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মিডিয়া রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধীরা আত্মবিশ্বাসে ফুটছে। কংগ্রেস, ইন্ডি জোট যেমন নিজেদের মতো করে আন্দোলন করছে তেমনি ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে সরকারের উপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে পড়ুয়ারা। সরকার এই দুই বিক্ষোভ দমনে দু’রকমের নীতি নিচ্ছে। সরকার ঠিক করেছে, বিক্ষোভকারীরা যদি পড়ুয়া বা জেন জি হয়, তাহলে তাঁদের প্রতি কঠোর মনোভাব দেখাবে না সরকার। পালটা ন্যারেটিভ তৈরি করা হবে। সোশাল মিডিয়ায় প্রচার করা হবে। বিজেপির সোশাল মিডিয়া কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই বিক্ষোভের ফলে যে অরাজকতা তৈরি হতে পারে, সেই সম্ভাবনা নিয়ে প্রচার চালাতে। 

তাছাড়া সরকার যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিক্ষোভের বিরুদ্ধে নয়, সেটা বোঝাতে বিক্ষোভকারীদের জন্য রামলীলা ময়দানের মতো বড় বিক্ষোভের স্থল নির্ধারণ করা হয়েছে। যাতে বিক্ষোভ দেখালে সাধারণ দিল্লিবাসীকে সমস্যায় না পড়তে হয়, আবার পড়ুয়াদের বিক্ষোভের অধিকারও লঙ্ঘিত না হয়। বস্তুত মোদি সরকারের বক্তব্য, এতদিন ধরে মোদি স্বৈরাচারী বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, সেই ন্যারেটিভ ভেঙে দিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ দেখানোর জন্য রামলীলা ময়দানের মতো ‘বড় মাঠ’ খুলে দেওয়া হয়েছে।

অবশ্য জেন জি বা পড়ুয়াদের বিক্ষোভে যে ধৈর্য দেখানো হবে, সেই একই রকম সহনশীলতা ইন্ডি জোট বা কংগ্রেসের বিক্ষোভে দেখানো হবে না। কংগ্রেস অঘোষিতভাবে কোনও কর্মসূচি করলে সেটা দমন করতে আয়রন হ্যান্ড নীতি নেবে দিল্লি পুলিশ। কেন্দ্র মনে করছে, পড়ুয়ারা মার খেলে সেটাতে ভুল বার্তা যায়। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মীরা আন্দোলন করতে গেলে পুলিশ ধরপাকড় করলে সেটা স্বাভাবিক বিষয়। এর বাইরে সোশাল মিডিয়ায় পালটা ন্যারেটিভ তৈরি করা হবে। বিশেষ করে আক্রমণ করা হবে রাহুল গান্ধীকে। রাহুলকে অরাজকতার ‘মুখ’ হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। তাছাড়া ভোট চুরি নিয়ে কংগ্রেসের দ্বিচারিতা ফাঁস করতে যে সব রাজ্যে কংগ্রেস জিতেছে, সেসব রাজ্যের ভোট নিয়ে রাহুল নীরব কেন, সেই প্রশ্ন তোলা হবে। তাছাড়া বিরোধীদের কোণঠাসা করতে জনবিন্যাস বদলের কারিগর এবং অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষাকর্তা হিসাবে রাহুলকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।

বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট। এই ইস্যুটি মূলত নির্বাচন কমিশনের। তাই যা জবাব দেওয়ার কমিশনকেই দিতে হবে। কমিশন নিজেদের মতো করে অভিযোগের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছে। আলাদা করে যেসব ভোটার বাদ গিয়েছেন তাঁদের ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনারও চেষ্টা হচ্ছে। তাছাড়া জ্ঞানেশের ইস্তফার বিষয়টি কেন্দ্রের হাতেই নেই। সেটা হতে পারে একমাত্র ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে। 

শেয়ার করুন:

You might also like!