
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মুম্বইয়ের আকাশ যেন বিষণ্ণ। ‘ক্রান্তি’ ছবির সেই বিখ্যাত সংলাপ—‘আ গয়ে মেরে মওত কা তামাশা দেখনে?…’—নানা পাটেকরের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যেন আরও একবার ফিরে ফিরে আসছে। প্রিয় সহকর্মীকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ বলিউডের সতীর্থরা। জাতীয় পুরস্কার ও পদ্ম সম্মানে সম্মানিত এই বর্ষীয়ান শিল্পীর প্রয়াণে দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সমাজমাধ্যমেও একের পর এক শোকবার্তা আসছে। নানা পাটেকরের দীর্ঘ অভিনয়জীবন, তাঁর অনন্য অভিনয়শৈলী এবং ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অনুপম খের, মিঠুন চক্রবর্তী, মনোজ বাজপেয়ী, পঙ্কজ ত্রিপাঠী, মণীষা কৈরালা-সহ বলিউডের একাধিক তারকা। প্রিয় অভিনেতাকে হারানোর বেদনা তাঁদের বার্তায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
প্রিয় বন্ধু নানার প্রয়াণে শোকাহত অনুপম খের। সোশাল মিডিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় অভিনেতাকে ভারতীয় সিনেদুনিয়ার অন্যতম সেরা অভিনেতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কাজের মাঝেই ঘণ্টা দুয়েক আগে আমি মর্মান্তিক খবরটা পেলাম, যে আমার বন্ধু নানা পাটেকর— ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা অভিনেতা এবং সেরা মানুষ— আর আমাদের মাঝে নেই। একটা কাজ শেষ করে সবেমাত্র দর্শকের সামনে ‘কার্টেন কল’ সেরেছি, মঞ্চের পিছনের দিকে যাওয়ার সময় আমাদের পরিচালক গজেন্দ্র আমাকে বললেন, ‘নানা আর নেই।’ কথাটা শোনার পরও আমাকে বহু মানুষের সঙ্গে দেখা করতে হল, ছবি তুলতে হল হাসিমুখে। এমনকী খেতেও বসেছি…, অথচ তখনও মনে-মনে পুরোপুরি খবরটা বিস্বাসকরতে পারছিলাম না। অত্যন্ত কঠিন কাজ! কিন্তু কোথাও একটা মনে হচ্ছিল, নানা নিশ্চয়ই চাইতেন- আমি যেন আমার কাজটা শেষ করি। যে দর্শক আমাদের দেখতে এসেছিলেন, তাঁদের প্রতি অভিনেতা হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করি। তারপর, হয়তো, ওর কথা মনে করি। আসলে, ওঁকে যতটা চিনি, তাতে মনে হয়েছে কোনও শ্রদ্ধার্ঘ্য বা বিশেষভাবে স্মরণের কথা শুনলেই ও হয়তো হসেই উড়িয়ে দিত। বলত- ‘আরে তাতে কী হয়েছে? মারা গিয়েছি তো, কী এমন বড় ব্যাপার? সবাই তো মরেই যায়।’ এমনই ছিল আমাদের নানা। সোজাসাপটা। অনাড়ম্বর, এমনকী কঠিন কথাও নিজের মতো করে বলার এক অনন্য ভঙ্গি ছিল ওঁর। বন্ধু, তোমার অভাববোধ করব খুব। তোমার সেই আন্তরিকতা, জড়িয়ে ধরা, আর অসাধারণ সব অভিনয়। তোমাকে খুব মনে পড়লে আমি তোমার সিনেমাগুলো দেখব। আজ ইচ্ছে করছে, যদি তোমাকে আরও একবার জড়িয়ে ধরতে পারতাম। তোমার পরিবার এবং যারা তোমাকে ভালোবাসতেন, তাদের সকলের প্রতি আমার ভালোবাসা ও গভীর সমবেদনা রইল।”
নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীও। প্রয়াত অভিনেতাকে ঘনি,্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে মহাগুরুর মন্তব্য, “আমি গভীরভাবে শোকাহত। কারণ নানা পাটেকর ছিলেন আমার অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। উনি বহু মানুষকে সাহায্য করতেন। লোকে বলত, ওঁর মেজাজ চড়া বা উনি হুটহাট রেগে যান, কিন্তু রাগ তো তখনই হয় যখন সবকিছু বিসুশৃঙ্খলভাবে চলে- আসলে, আমিও তো তখন রেগে যাই। সবকিছু যদি ঠিকঠাক থাকে, তবে রাগ হবে কেন? সিনেমার গণ্ডি ছাড়িয়েও আমাদের বন্ধুত্ব অনেক গভীর ছিল। বলতে পারি, সিনেমার বাইরেও আমাদের সম্পর্কটা খুব ভালো ছিল।”

নানাকে ‘গুরু’ সম্বোধন করে পঙ্কজ ত্রিপাঠীর মন্তব্য, “আমাদের সমগ্র সিনেজগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এটা আমার ব্যক্তিগতশোকও বটে। ‘কালা’ সিনেমায় ওঁর সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল এবং সেই অভিজ্ঞতা আমার কাছে চিরকাল বিশেষ হয়ে থাকবে। উনি শুধু আমার সহ-অভিনেতাই ছিলেন না, বরং পথপ্রদর্শকও ছিলেন। আমাকে অভিনয়শৈলী, জীবনের সিদ্ধান্ত এবং অভিনয়ের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো সম্পর্কেও নানা উপদেশ দিতেন। ওঁকে দেখে এবং ওঁর কথা শুনে আমি অনেক কিছু শিখেছি। নাটকে ওঁর নির্দেশনা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওর চলে যাওয়া আমার কাছে গুরুবিয়োগের মতো। নানা পাটেকরের অনুপস্থিতি অনুভূত হলেও ওঁর থেকে পাওয়া শিক্ষা এবং অসাধারণ সব কাজ আমাকে ও আগামী প্রজন্মের অভিনেতাদের অনুপ্রাণিত করবে।” নানার মৃত্যুর খবর এখনও বিশ্বাসই করতে পারছেন না মনোজ বাজপেয়ী। লিখলেন, “অবিশ্বাস্য! বিশ্বাসই হচ্ছে না যে, নানা পাটেকরজি আর নেই। আমাদের মধ্যে যাঁরা সিনেজগতে জায়গা করে নেওয়ার আশায় মুম্বইতে এসেছিলাম, তাঁদের অনেকের কাছেই নানা ছিলেন অনুপ্রেরণা। ওঁর পথচলা ছিল আমাদের আশার আলো। উনি আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিলেন যে— নিজের শিল্পদক্ষতা, স্বকীয়তা এবং নিজের সত্তার প্রতি অটল থাকাই সিনেইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা করে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। আমরা আমাদের অন্যতম সেরা একজন অভিনেতাকে হারালাম। আপনাকে খুব মনে পড়বে, নানাজি।”
মনীষা কৈরালার সঙ্গে একাধিক ছবিতে স্ক্রিন ভাগ করেছেন নানা পাটেকর। সহ-অভিনেতার প্রয়াণে তাঁর শোকবার্তা, “একজন মহান অভিনেতা, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং অভিনয়ের জগতের এক প্রকৃত দিকপালের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। চলচ্চিত্রের জগতে তাঁর অবদান এবং অভিনয়ের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শান্তিতে ঘুমোন।” অক্ষয় কুমারের সঙ্গে নানার ‘ওয়েলকাম’ ফ্র্যাঞ্চাইজি সুপারহিট। ‘উদয় ভাই’য়ের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে খিলাড়ি বললেন, “বলিউডের বিরল অভিনেতা। যাঁকে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য কখনওই অতিরিক্ত কিছু করতে হত না। সেই কণ্ঠস্বর, সেই গভীরতা, প্রতিটি অভিনয়ে সেই সততা— সব মিলিয়ে তিনি অনন্য। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি যে ‘ওয়েলকাম’ এবং অতি সম্প্রতি ‘হাউসফুল ৫’-এ ওঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেই সব শুটিংয়ের কত যে স্মৃতি, যা আমি সবসময়ে সযত্নে আগলে রাখব। নানাজি সত্যিই একমেবাদ্বিতীয়ম। বিশ্বাসই হচ্ছে না যে আপনি আর নেই। এত সব সুন্দর স্মৃতির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনাকে যে কতটা মনে পড়বে, সেটা ভাষায় বলে বোঝাতে পারব না।” নানা ছিলেন আদ্যোপান্ত ক্রিকেট ফ্যান। বিরাট কোহলি ছিলেন পছন্দের ক্রিকেটার। তাঁর প্রয়াণে শোকবার্তা কোহলিরও।
NANA PATEKAR THE GREATEST?💔💔A couple of hours ago, I received the heartbreaking news that my friend Nana Patekar, one of the finest actors and human beings in Indian cinema, is no more.🥹🥹🥹 I had just finished our performance and taken the curtain call. As I walked into the wings, my director Gajendra told me, “Nana is no more.”🥹 After that, I had to meet people, pose for photographs, smile, sit down for a meal… while trying to absorb what I had just heard. It was terribly difficult. But somewhere, I felt that Nana would have wanted me to finish my work. Fulfil my responsibility to the people who had come to see us. And then, perhaps, remember him. Actually, knowing him, I can almost hear him dismissing the very idea of a tribute: “अरे, तो क्या हो गया? मर गया तो कौन-सी बड़ी बात है? सभी मरते हैं!” That was Nana. Direct, unpretentious, with his own way of saying even the most difficult things.❤️🩹 I will miss you, my friend. Your warmth. Your hugs. Your extraordinary performances. And whenever I miss seeing you, I will watch your films. Though today, I wish I could simply hug you one more time. My love and deepest condolences to your family and to everyone who loved you. अलविदा मेरे दोस्त, नाना पाटेकर। बहुत सारा प्यार। 🙏💔 #NanaPatekar #HeartBreaking
— Anupam Kher (@AnupamPKher) October 8, 2026
