Breaking News
 
বিক্ষোভের জেরে দিল্লি অবরুদ্ধ কেন? যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের Anubrata Mandal: কেষ্টর নিরাপত্তায় রাজ্য সরকারের বড় পদক্ষেপ, এবার সশস্ত্র দেহরক্ষী পেলেন অনুব্রত Humayun Kabir: ‘২০২৯-এর পর দুবাই চলে যাব’, রেজিনগরে হারতেই বড় ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের! WB By-Elections: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে বিজেপির জয়জয়কার, ‘কংগ্রেস মরা দল’ কটাক্ষ শুভেন্দুর, সংখ্যালঘুদেরও ধন্যবাদ মুখ্যমন্ত্রীর President Murmu to meet I.N.D.I.A. bloc leaders: জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে একজোট ইন্ডিয়া, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে মমতা-রাহুলরা Appointment Letter for an Athlete: খেলার মাঠে সাফল্যের স্বীকৃতি, ৭৮ পদকজয়ী ক্রীড়াবিদকে সরকারি চাকরির পথে রাজ্য সরকার

 

Festival and celebrations

45 minutes ago

Durga Puja 2026: বন্দে মাতরমের স্রষ্টাকে শ্রদ্ধা, পুজোর শতবর্ষে ‘আনন্দমঠে’র আলোয় সাজছে কলকাতার এই মণ্ডপ

The idol of Khidirpur Sarbojanin
The idol of Khidirpur Sarbojanin

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  মা দুর্গা কখনও শক্তির প্রতীক, কখনও বা অশুভের বিরুদ্ধে রক্ষাকর্ত্রী। দেবীর রূপ বদলালেও বাঙালির আবেগের কেন্দ্রে তাঁর অবস্থান চিরন্তন। অন্যদিকে বাঙালির সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগতে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্থানও অনন্য। তাঁর সাহিত্যসৃষ্টি সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে আজও প্রাসঙ্গিক, আগামী প্রজন্মের কাছেও তা সমান ভাবে সমাদৃত হবে বলেই মনে করা হয়। এ বার দুর্গাপুজোয় কলকাতার মণ্ডপে দেখা যাবে এই দুই আবেগের এক অভিনব মেলবন্ধন। দেবী দুর্গার আরাধনার সঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যসৃষ্টিকে একসূত্রে বেঁধে তৈরি হচ্ছে বিশেষ ভাবনা। পুজোর আবহে সাহিত্য, ইতিহাস ও বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনার এই মিশেল শহরবাসীর নজর কাড়তে চলেছে।

সাহিত্যসম্রাটের অনন্য সৃষ্টিকে উদযাপন করবে খিদিরপুর সর্বজনীন। বিগত একশো বছর ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এগিয়ে নিয়ে চলেছে এই পুজোকে। ১৯২৭-এ যে পুজো শুরু হয়েছিল, চলতি বছরে একশোয় তার পা পড়বে। আর এবারের পুজো আরও স্মরণীয় করে তুলতে শিল্পী অনিমেষ দত্তর ভাবনা, “শতবর্ষ ধরে পুজেছি যারে, আনন্দমঠে চিনেছি তারে।” ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’কে সামনে রেখেই হবে এবারের দেবী আরাধনা। ১৭৭০-এর ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সন্ন্যাসী বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত ‘আনন্দমঠ’। ১৮৮২-তে প্রকাশিত কালজয়ী এই উপন্যাসটি বাংলা তথা ভারতীয় সাহিত্যে অন্যতম প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উপন্যাসের ‘বন্দে মাতরম’ গানটি দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছিল বিপ্লবীদের। হয়ে উঠেছিল সংগ্রামের হাতিয়ার। এই গানই পরবর্তীতে জাতীয় স্তত্রের স্বীকৃতি পায়। ‘বন্দে মাতরমে’র দেড়শো বছরে সেই ইতিহাসই স্মরণ করাবে এই পুজো।

আনন্দমঠ-এর বিভিন্ন দৃশ্য, চিত্র, প্রতীক ও ভাবনার মধ্যে দিয়ে তাঁরা খুঁজে নিতে চান সেই মাতৃমূর্তিকেই, দুর্গা রূপে যার আরাধনা তাঁরা করে চলেছেন বিগত শত বছর ধরে। অতএব পুজো প্রাঙ্গণটি সেজে উঠবে সাহিত্য, ইতিহাস, শিল্প, ভক্তি ও মাতৃভাবনার এক দৃশ্যমান যাত্রা হিসেবে। দর্শকরা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন অংশে পা রাখলেই দেখতে পাবেন মায়ের বহু রূপ। সৌন্দর্য-প্রাচুর্য থেকে শুরু করে বেদনা ও সংগ্রামের ছবিও ধরা পড়বে তাতে। কেবল শতবর্ষ সম্পূর্ণ করার উদযাপন নয়, সাহিত্য ও শিল্পের দৃষ্টি দিয়ে এত বছরের দুর্গা আরাধনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চান উদ্যোক্তারা। দর্শক এখানে কেবল ঠাকুর দেখতে আসবেন, এমন নয়। বাংলার ঐতিহ্যবাহী সাহিত্যের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হওয়ার সুযোগও পাবেন। দ্রুত হাতে চলছে প্রস্তুতি। বাঙালির চিরপরিচিত মা দুর্গাকে এমন রূপে দেখে বুঝি বাঁধ মানবে না ভক্তের আনন্দাশ্রু।


You might also like!