Breaking News
 
Tulu Mondal protection plea: ‘টুলু মণ্ডল যেন ইন্দ্রজিৎ, মেঘের আড়াল থেকে সব দেখছেন’! কোর্টে চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ Jadavpur University violence: ‘যাদবপুরে দেশবিরোধী তৈরি হয়’, ‘ইনশাআল্লা-আজাদি চলবে না’! শর্বরীর হুঙ্কারে পালটা বামনেত্রীর CM Suvendu Adhikari: বন্যায় সবংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩২০০ বাড়ি! আকাশপথে পরিস্থিতি দেখে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর Jadavpur University Chaos: যাদবপুরে রাতের সংঘর্ষ অনভিপ্রেত, উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়ে তদন্তের ভাবনা উপাচার্যের Amit Shah: ‘স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান’, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র তোপ অমিত শাহের Omar Abdullah : জেন জি-র নামে জওয়ানদের হুমকি? তরুণীর ভিডিও দেখে ক্ষুব্ধ ওমর আবদুল্লা, দিলেন কড়া বার্তা

 

kolkata

2 years ago

Sandeshkhali Incident:রাষ্ট্রপতির কাছে যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁরা কারা? সংশয় পদ্মপ্রার্থী রেখার! প্রকাশ্যে সন্দেশখালির নয়া ভিডিয়ো

Sandeshkhali Incident
Sandeshkhali Incident

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ আবারও ভাইরাল হল একটি ভিডিয়ো। আর সেই ভিডিয়োয় আবার দেখা যাচ্ছে বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রকে। তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যে সকল আন্দোলনকারীদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁদের পরিচয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থীকে। একই অভিযোগ সন্দেশখালির অপর আন্দোলনকারী মাম্পি দাসেরও। তবে ভিডিয়োটি কবে এবং কোথায় তোলা, তা স্পষ্ট নয়।

ভিডিয়োর শুরুতেই রেখার পাশে দাঁড়ানো মাম্পিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “রাষ্ট্রপতি ম্যাডামের কাছে সন্দেশখালির কিছু নির্যাতিতাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তা হলে আমরা কারা?” পাশে দাঁড়ানো আর এক মহিলার সংযোজন, “আমরা তো সন্দেশখালির আন্দোলনকারী বা নির্যাতিতা। আমরা সবাই তো গিয়েছিলাম প্রধানমন্ত্রী বা পিএম স্যরের সঙ্গে দেখা করতে। তা হলে আমাদেরকে ছাড়া রাষ্ট্রপতি ম্যাডামের কাছে কারা গেল? আমরা তা হলে কারা?”

এই ভিডিয়োতেই বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তথা সন্দেশখালি আন্দোলনের অন্যতম ‘মুখ’ রেখা বলছেন, “আমরা নির্যাতিতা মেয়েরা সন্দেশখালিতেই পড়ে রয়েছি। তা হলে আমাদের মুখ হয়ে কারা গিয়েছে (রাষ্ট্রপতি ভবনে), এটা তো জানার প্রয়োজন রয়েছে। আর ওখানে যে রাষ্ট্রপতি ম্যাডামের কাছে গিয়েছে, আমাদের কিছু জানিয়েছে? আমরা তো নির্যাতিতা, আমরাই আন্দোলনের মেন (প্রধান) মুখ।”

তবে কাদের ‘নির্যাতিতা’ সাজিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে কেবল সংশয়ই নয়, ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনাও উস্কে দিয়েছেন রেখারা। দাবি করেছেন যে, ‘নকল’ নির্যাতিতাদের দিল্লি নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে বিজেপি নেতা অনুপ দাসের হাত রয়েছে। এই অনুপ আবার শাহজাহান শেখের ‘ঘনিষ্ঠ’, অধুনা জেলবন্দি শিবপ্রসাদ হাজরা ওরফে শিবুর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে মাসোহারা নিতেন বলে ভিডিয়োয় অভিযোগ করেছেন মাম্পি। রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়া এক অভিযোগকারিণী ‘তৃণমূলের লোক’ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রেখা-মাম্পিরা। ভাইরাল ভিডিয়োটিতে মাম্পি বলছেন, “খবর পেয়েছি যে অনুপ দাস নিয়ে গিয়েছেন। অনুপ দাস তো ভিতরে ভিতরে শিবু হাজরার কাছ থেকে মাস গেলে ১০ হাজার টাকা করে পয়সা নিত। খবর আছে ওঁর সঙ্গে পদ্মা মণ্ডলও গিয়েছেন। তা হলে কি এটা বুঝব যে, পদ্মা মণ্ডল টিএমসির লোক? উপরে উপরে বিজেপি করে?” বিজেপির একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অনুপ এক সময় বিজেপি করলেও পরে তাঁকে দল থেকে ‘বের করে দেওয়া হয়’।

নতুন এই ভাইরাল ভিডিয়ো নিয়ে মুখ খুলেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “যে অনুপ দাসের কথা বলা হচ্ছে, তাঁকে আমি চিনি। উনি দীর্ঘ দিনের বিজেপি কর্মী।” সন্দেশখালির আন্দোলনে কোনও রাজনৈতিক দল ছিল না বলে দাবি করে শমীকের সংযোজন, “যাঁরা (ভিডিয়োয়) এই বক্তব্য রাখলেন, তাঁরা এই আন্দোলনের মধ্যে নতুন এসেছেন। রেখা পাত্রও নতুন এসেছেন। ছোট ছোট দ্বীপে মহিলারা স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন করেছিলেন। এর মধ্যে কোনও বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম ছিল না। ভবিষ্যতেও এই আন্দোলন হবে।” বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা বর্ধমান দুর্গাপুরের পদ্মপ্রার্থী দিলীপ ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলেন, “কে জানে যে, যাঁদের সামনে আনা হয়েছে, তাঁরাই নির্যাতিতা? যাঁরা প্রকাশ্যে মুখ খুলছে না, তাঁরা কি নির্যাতিতা নয়? তাঁরা রাষ্ট্রপতির সামনে মুখ খুলেছেন। এখানে খোলেননি। সন্দেশখালিতে পাড়ায় পাড়ায় নির্যাতিতা রয়েছেন।”

নতুন ভাইরাল ভিডিয়ো নিয়ে বিজেপিকে তোপ দেগে তৃণমূল মুখপাত্র শান্তনু সেন বলেন, “রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলকে বদনাম করার জন্য সন্দেশখালির চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছিল। মহিলাদের সম্ভ্রমকে ভোট বৈতরণী পার করতে ব্যবহার করেছিল বিজেপি। সেই মুখোশ খুলে গিয়েছে। আরও বেআব্রু হচ্ছে।” সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতো বলেন, “পুরোটাই নাটক ছিল। কখনও রেখা পাত্র, কখনও অন্য মহিলাদের নিয়ে গিয়ে বলানো হয়েছে আমরা নির্যাতিতা। বিজেপি এই ষড়যন্ত্রটা করে সন্দেশখালির মহিলাদের অপমান করেছে।” সিপিএম অবশ্য বিজেপি এবং তৃণমূলকে দু’পক্ষই একই বন্ধনীতে রেখে আক্রমণ শানিয়েছে। সন্দেশখালির প্রাক্তন বাম বিধায়ক তথা এ বারে বসিরহাটের প্রার্থী নিরাপদ সর্দার বলেন, “আন্দোলন বাস্তবসম্মত ছিল। ওখানে জমি লুট হয়েছে, ১০০ দিনের কাজের টাকা লুট হয়েছে। মা-বোনেরা এর প্রতিবাদ করলে তাঁদের উপরে অত্যাচার হয়েছে। তাই তৃণমূলের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। তৃণমূল আর বিজেপি মিলে এই আন্দোলনটাকে ভাঙল।”

গত ১৫ মার্চ সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন সন্দেশখালির ১১ জন ‘নির্যাতিত’। এঁদের মধ্যে ছিলেন পাঁচ জন মহিলা এবং ছ’জন পুরুষ। শাহজাহান এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদীর কাছে প্রতিকার চান ওই ১১ জন। রাষ্ট্রপতি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। এমনকি, দুঃখপ্রকাশও করেন। অন্য দিকে, গত ৬ মার্চ বারাসতে জনসভা করার পর সন্দেশখালির ‘নির্যাতিতা’ মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ভিডিয়োয় রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নির্যাতিতাদের দেখা করার প্রসঙ্গটি ওঠায় কেউ কেউ মনে করছেন ভিডিয়োটি ওই সময়েই তোলা হয়ে থাকতে পারে। ওই সময় বসিরহাটের পদ্মপ্রার্থী হিসাবে রেখার নামও ঘোষণা করেনি বিজেপি।

সন্দেশখালির প্রথম ভাইরাল ভিডিয়োয় বিজেপি নেতা গঙ্গাধর কয়ালকে বলতে শোনা গিয়েছে যে, সন্দেশখালিতে টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের ‘মিথ্যে’ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। বসিরহাট আসনে বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রও দু’হাজার টাকার বিনিময়ে ধর্ষণের ‘মিথ্যে’ অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বলে দাবি করেছিলেন ওই পদ্মনেতা। বিজেপি অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে ওই ভিডিয়োকে সাজানো এবং বিকৃত বলেছে। গঙ্গাধরও কণ্ঠস্বর বিকৃতির অভিযোগ তুলেছেন। এই নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সন্দেশখালির এক মহিলার বক্তব্যের ভিডিয়ো বুধবার প্রকাশ্যে আসে। সেই ভিডিয়োয় মহিলার দাবি, তাঁকেও ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল থানায়। না জানিয়ে সাদা কাগজে সই করানো হয়েছিল। এক সপ্তাহ পর তিনি সবটা জানতে পারেন। মহিলার আরও দাবি, পরে যখন তিনি মামলা তুলতে চান, তাঁকে ‘হুমকি’ দেওয়া হয়। ভিডিয়োয় অভিযোগকারিণীর দাবি, এ সবের নেপথ্যে ছিলেন মাম্পি দাস এবং পিয়ালি দাস।


You might also like!