দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের মামলায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে কড়া ভর্ৎসনা করলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। কী কারণে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল, তা নিয়ে ব্যাঙ্কের তরফে প্রথমে কেওয়াইসি সংক্রান্ত কারণ দেখানো হয়। পরে অভিষেকের বিরুদ্ধে ইডির মামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। ব্যাঙ্কের এই অবস্থান বদলেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন না। না হলে ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে ডাকতে বাধ্য হব।” পাশাপাশি বিচারপতির প্রশ্ন, এখন যখন অনলাইনেও কেওয়াইসি করা সম্ভব, তখন কি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ অভিষেকের মুখোমুখি হতে চাইছে? এরপর ব্যাঙ্কের আইনজীবী আদালতের কাছে কিছুটা সময় চান। দুপুর ১টার পর মামলাটি ফের শুনানির জন্য ওঠার কথা।
বিদেশ যাওয়ার আগে অভিষেকের অ্যাকাউন্ট ফিজ করা হয়। বৃহস্পতিবার শুনানিতে সাংসদের আইনজীবী আদালতে জানায়, অভিষেকের দুটি ক্রেডিট কার্ড। ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নের উত্তরে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেওয়াইসি করাতে হবে। তাঁর দাবি, কেওয়াইসি শেষ হবে ডিসেম্বর মাসে। এরপরই ব্যাঙ্কের উদ্দেশে বিচারপতি রাও বলেন, “কেওয়াইসি অনলাইনে হয়। অভিষেককে কেন কেওয়াইসির জন্য ডেকে পাঠানো হল? মনে হয় তাঁর মুখ দেখতে চাইছে ব্যাঙ্ক!’’
সাংসদকে পাঠানো চিঠির ভাষা নিয়েও ব্যাঙ্কের সমালোচনা করেছেন বিচারপতি। আদালতের পর্যবেক্ষণ এই ভাবে কোনও গ্রাহককে চিঠি পাঠানো যায় না। ব্যাঙ্কের দাবি, অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা রয়েছে। সেই কারণে কেওয়াইসির জন্য অভিষেককে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তা প্রকাশ্যে তা বলা সম্ভব নয়। বিচারপতি বলেন, “থাকতেই পারে। কিন্তু গ্রাহককে না জানিয়ে কীভাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিতে পারে?” এরপরই ব্যাঙ্কের আইনজীবী হাই কোর্টে অভিষেকের বিরুদ্ধে চলা একটি ইডি মামলার প্রসঙ্গ টানেন। তারপরই ব্যাঙ্ককে ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি। তিনি বলেন, “অবস্থান পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না। না হলে ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে ডাকতে বাধ্য হব। এখন অনলাইনেও কেওয়াইসি করা যায়। কর্তৃপক্ষ কি অভিষেকের মুখ দেখতে চাইছে।”
