
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গত মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘করোচ আন্দোলন’ নিয়ে সরব হতে দেখা গিয়েছিল আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। অথচ ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের আন্দোলন ঘিরে তাঁর অবস্থান নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। গত সোমবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানালেও আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি কেজরিওয়াল। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, বন্ধুত্ব এবং আদর্শের টানাপোড়েনে কি দ্বিধায় পড়েছেন আপ প্রধান? শেষ পর্যন্ত যেন মাঝামাঝি পথই বেছে নিলেন কেজরিওয়াল। মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ড সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করেই ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, পড়ুয়াদের উপর কোনও ধরনের হিংসা বা বলপ্রয়োগ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নিটের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণে কোনও খামতি রাখেননি তিনি। এমনকী যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির সভামঞ্চে গিয়ে পড়ুয়াদের উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সরব হন। সিজেপি-র বিক্ষোভের পরপরই ঝাড়খণ্ডের জেপিএসি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনা সামনে আসে। একই ধাঁচে শুরু হয় আন্দোলন। এতেই বিপাকে পড়েন কেজরি। সোশাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের তরফে কটাক্ষ করা হয় এবার কেজরি কোথায় গেলেন? পড়ুয়াদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান চললেও একটি শব্দও খরচ করেননি আপ প্রধান। অথচ সোমবার যখন রাঁচির রাস্তায় এত কাণ্ড হচ্ছে তখন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায় তাঁকে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের এমন দু’মুখো মানসিকতায় সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠতেই মঙ্গলবার নীরবতা ভাঙলেন তিনি। তবে হেমন্ত সোরেন সরকারের সমালোচনা নয়, বরং ‘ধরি মাছ, না ছুঁই পানি’ সুলভ ভঙ্গিতে তিনি লেখেন, ‘আমি ঝাড়খণ্ডের প্রতিবাদী ছাত্রদের দাবিকে সমর্থন করি এবং সরকারকে অবিলম্বে তাদের সমস্যার সমাধান করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি। ছাত্রদের ওপর হিংসা অগ্রহণযোগ্য।’
উল্লেখ্য, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও হেমন্ত সোরেনের বন্ধুত্ব অনেকদিনের। উভয় নেতাই একাধিক মামলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সি দ্বারা গ্রেপ্তার হয়েছেন। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে। হেমন্তের গ্রেপ্তারির পর কেজরিওয়ালের স্ত্রী সুনিতা কেজরিওয়াল ২০২৪ সালের এপ্রিলে রাঁচিতে জেএমএম-এর আয়োজিত একটি সমাবেশ যোগ দেন। একদিকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু আর অন্যদিকে রাজনৈতিক আদর্শ দু’ইয়ের মাঝে পড়ে নাজেহাল অবস্থা কেজরিওয়ালের।
