
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাবরি অডিও কাণ্ডের তদন্তে বুধবার ফের বহরমপুর থানায় হাজিরা দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। এ দিন তাঁকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। থানা থেকে বেরিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন নওদার বিধায়ক। হুমায়ুনের অভিযোগ, তাঁকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর দাবি, ‘ঋতব্রত শিবিরকে জামাই আদর করছে পুলিশ।’ বাবরি অডিও কাণ্ডের জিজ্ঞাসাবাদের পর হুমায়ুনের এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্কিত অডিও কাণ্ডে সোমবারই বহরমপুর থানায় প্রায় ৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় হুমায়ুনকে। সেদিনই তাঁকে বুধবার হাজিরার নোটিস ধরিয়েছিল বহরমপুর থানার পুলিশ। এদিন সকাল ১১টায় তাঁকে তলব করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগে থানায় উপস্থিত হয়ে বিজেপি সরকারকে একহাত নেন হুমায়ুন কবীর। থানায় ঢোকার মুখে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে হুমায়ুন বলেন, “পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংখ্যালঘুদের ভিনরাজ্যে চলে যেতে বলছে। যাতে বিজেপি ভোটে জিততে পারে।” সেই সঙ্গে হুমায়ুনের আরও দাবি, “বিজেপির বি টিম ঋতব্রত শিবিরের কোনও অসুবিধা নেই। মমতার টিমকেও সাপোর্ট দিচ্ছে পুলিশ। আমাদের অপরাধ হল, রেজিনগরে ৫৯ হাজার থাপ্পড় খেয়েছে বিজেপি। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারপরেও বেলডাঙা, রেজিনগর, শক্তিপুরের পুলিশ শান্তি পাচ্ছে না।” পুলিশকে তীব্র আক্রমণ করে হুমায়ুন বলেন, “পুলিশ বিজেপি সরকারের দালালি করছে। সরকারি চাকরি ছেড়ে দিক। উর্দি খুলে দিয়ে দালালি করুক।” অন্যদিকে, এদিন রেজিনগর থানা পুলিশ সুপারের কাছে অবাধ, নিরপেক্ষ ভোট করাতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান। সেই সঙ্গে হুমায়ুনের বক্তব্যের প্রসঙ্গে বাড়তি একটি কথাও খরচ না করে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “হুমায়ুন কবীরের বিষয়ে কথা বলার কোনও আগ্রহ নেই।”
জানা গিয়েছিল, নির্বাচনের সময় একটি অডিও ভাইরাল হয়েছিল। সেখানে মুর্শিদাবাদে নির্মীয়মান বাবরি মসজিদে বিজেপির দলীয় পতাকা লাগানোর কথা বলা হয়েছিল। দুই ব্যক্তির মধ্যে ওই কথোপকথন হয়েছিল। যদিও সেই অডিও ক্লিপের সত্যতা বিচার করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। ওই কল রেকর্ডিংয়ের অন্যপ্রান্তে হুমায়ুন কবীর ছিলেন বলে অভিযোগ। দিন কয়েক আগে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে এক ব্যক্তি কথা বলে হিংসা ছড়ানো ওই পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ। অডিও ক্লিপের তদন্তে নেমে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। সেই মামলাতেই সোমবারের পর বুধবার থানায় হাজিরা দেন হুমায়ুন।
