
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক : শপথ গ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন মাইকের সামনে দাঁড়ালেন, তিনি সরাসরি ভাষণে না গিয়ে মঞ্চের একদম সামনে চলে আসেন। দু’হাত জোড় করে এবং নতজানু হয়ে তিনি উপস্থিত জনতাকে দীর্ঘক্ষণ প্রণাম জানান। তাঁর এই আচরণে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বাংলার মানুষের দেওয়া বিপুল জনাদেশের প্রতি তাঁর চরম শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বাংলা তাঁর হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
আজ, শনিবার বেলা ১১টায় শুভেন্দু অধিকারীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল। তাঁর আসার নির্দিষ্ট সময়ের এক ঘণ্টা আগেই মোদি বঙ্গে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে তিনি ব্রিগেডে এসে পৌঁছন। সেসময় ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ। কার্যত জনগর্জন শোনা গিয়েছে মাঠ থেকে। মঞ্চে উঠেই প্রথমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। জোড় হাতে কবিগুরুকে প্রণাম করেন তিনি।
এরপরই মঞ্চের মাঝখানে পৌঁছে যান মোদি। সেখানেই হাঁটু মুড়ে বসেন। এরপর মাঠা নিচু করে জনতার উদ্দেশ্যে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। তিনি লেখেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের জনশক্তির কাছে মাথানত করছি।” এবারের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর থেকে দক্ষিণ রাজ্যের একাধিক জেলায় সভা করেন মোদি। বিজেপিকে এবার সরকার গঠনের জন্য মানুষের কাছে আবেদন করেছিলেন। আগামী দিনে বাংলায় উন্নয়নের বার্তাও তিনি দিয়েছেন। ভোটের ফল বেরলে দেখা যায়, এক সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে অনেক বেশি আসনে বিজেপি জিতেছে। তৃণমূল সরকারকে কেবল সরানোই নয়, ২০৭টি আসনে জিতে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে।
এদিন ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ, অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কোনও বক্তব্য রাখেননি। সফর শেষে ফের তিনি ফিরে গিয়েছেন। সেই মঞ্চেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পায়ে হাত দিয়ে এক বৃদ্ধকে প্রণাম করলেন। মাখনলাল সরকার নামে ওই বৃদ্ধ তখন আবেগাপ্লুত। মোদিকে জড়িয়ে ধরেছেন তিনিও। ৯২ বছরের বৃদ্ধ মাখনলাল বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কাশ্মীর যাত্রার সঙ্গী ছিলেন। সেসময় জেলও খেটেছেন তিনি।
