kolkata

1 hour ago

Samik Bhattacharya : ‘দুর্নীতির দায় দল নেবে না’! বিজেপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শমীকের কড়া বার্তা ঘিরে চাঞ্চল্য

Samik Bhattacharya
Samik Bhattacharya

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখনও একশো দিনও পুরোপুরি পেরোয়নি। এরই মধ্যে দলের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ সামনে এসেছে। পাশাপাশি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে খুনোখুনির ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে দলকে যাবতীয় অভিযোগ ও বিতর্ক থেকে দূরে রাখতে বারবার কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবে সতর্কবার্তার পরেও পরিস্থিতিতে বিশেষ বদল না হওয়ায় এবার আরও কড়া পথে হাঁটলেন তিনি। চিঠির আদলে লেখা শমীকের একটি সতর্কবার্তা ইতিমধ্যেই বিজেপির বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা থেকে বুথস্তর পর্যন্ত সেই বার্তা পৌঁছে গিয়েছে দলের নেতা, কার্যকর্তা ও কর্মীদের কাছে। দলীয় সূত্রে খবর, সংগঠনের ভিতরে শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই বার্তার মাধ্যমে আরও একবার কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রাজ্য সভাপতি। 

শমীক ভট্টাচার্যর ‘জরুরি সতর্কবার্তা’র শুরুতেই সম্বোধন করা হয়েছে – ‘প্রিয় রাজ্য, জেলা, অঞ্চল, মণ্ডল এবং বুথ স্তরের সমস্ত বিজেপি কার্যকর্তা ও কর্মী ভাই-বোন’দের। বলা হয়েছে, সততা, স্বচ্ছতা ও আদর্শই বিজেপির মূল চালিকাশক্তি। ভারতীয় জনতা পার্টিরর সুদীর্ঘ আদর্শ আরও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে শমীক লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজির জিরো টলারেন্স নীতি এবং দেশসেবার সংকল্পই বিজেপির কাজের মূল ভিত্তি। অতি সম্প্রতি চিঠি ও বার্তার মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের কিছু অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড ও অনিয়মের তথ্য আমার নজরে এসেছে। বুথ স্তর থেকে রাজ্য স্তর পর্যন্ত – যে কোনও সদস্যের ক্ষেত্রে একথা প্রযোজ্য: দলের নীতির বাইরে গিয়ে কোনও ব্যক্তি যদি কোনও অনৈতিক বা দুর্নীতির কাজের সঙ্গে যুক্ত হন, দল তার দায়ভার কখনওই নেবে না।’ 

এরপর বার্তায় লেখা – দলের সকল স্তরের কর্মী ও নেতৃত্বকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে:

প্রথমত, জিরো টলারেন্স: দুর্নীতি বা অপকর্মের সামান্যতম প্রমাণ মিললে, পদ বা অবস্থান নির্বিশেষে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দ্বিতীয়ত, দলের ভাবমূর্তি: ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য দলের ভাবমূর্তি ও কর্মীদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ সতর্ক থাকুন।

তৃতীয়ত, জনসেবাই লক্ষ্য: সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রেখে পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে কাজ করাই প্রতিটি কার্যকর্তার একমাত্র দায়িত্ব।

শমীকের আহ্বান, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে দলের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখি।’ এই দীর্ঘ বার্তা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের সবপ্রান্তের বিজেপি নেতা, জনপ্রতিনিধি থেকে কার্যকর্তা, কর্মীদের কাছে। ওয়াকিবহাল মহলের মত, তৃণমূল জমানার ‘ব্যাধি’ যাতে দলের মধ্যে সংক্রামক না হয়ে পড়ে, তার জন্য গোড়া থেকে কঠোর বিজেপি রাজ্য সভাপতি নিজে। কিন্তু তাঁর হাজার বার্তাতেও কাজ হয়নি। সময় যত এগোচ্ছে, ততই বিজেপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই এবার কার্যত মরিয়া হয়ে শমীকের লিখিতস বার্তা সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হল।  

You might also like!