kolkata

1 hour ago

Tulu Mandal: দিনমজুর থেকে কোটিপতি! আত্মগোপনে থেকেও হাই কোর্টের দ্বারস্থ টুলু মণ্ডল

Tulu Mondal
Tulu Mondal

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলের গ্রেপ্তারের পর থেকেই জনসমক্ষে আর দেখা যায়নি পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে। তদন্তকারীদের অনুমান, দেশ ছেড়ে বিদেশে গিয়েই তিনি আত্মগোপন করেছেন। এই পরিস্থিতিতেই আড়াল থেকে আইনি সুরক্ষার আবেদন জানালেন টুলু। বুধবার তাঁর পক্ষ থেকে কলকাতা হাই কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে সেই আবেদন জমা পড়েছে। 

দিনভর দিনমজুরি আর সন্ধ্যায় গৃহশিক্ষকতা করে নিজের সংসার চালাতেন টুলু মণ্ডল। দিনমজুরির কাজ করতে করতেই গাড়িতে পাথর চাপানোর ইজারা নেন টুলু। সেখান থেকে কিছুটা টাকা রোজগার করে ধাপে ধাপে কয়েকটি লরি কিনে নিজেই হাত পাকান পাথর পরিবহণের ব্যবসায়। ধীরে ধীরে আর্থিক স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি। দ্বিতীয় ধাপে রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলের জেলা ও রাজ্য স্তরের নেতারা বুঝতে পারেন, মহম্মদবাজারে মাটির তলায় পাথরের নয় বরং টাকার খনি রয়েছে। সেখান থেকে বিপুল রোজগার করা সম্ভব। স্বাভাবিকভাবেই এই এলাকার উপর নজর পড়ে নেতাদের, আর আবারও নিজের শিক্ষিত মাথাকে কাজে লাগিয়ে নেতাদের সঙ্গে পাথর ব্যবসায়ীদের সখ্যতার নিরিখে প্রথম স্থানে চলে আসেন টুলু মণ্ডল। এতে টুলুর উত্থানের পথ আরও প্রশস্ত হয়। তবে ২০১৬ সালে অনুব্রত মণ্ডলের স্নেহধন্য হওয়ার সুবাদে ডিসিআরের টোল গেট পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। 

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান দেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ৯৩ কোটি টাকা ছিল টুলুর। এছাড়া নগদ পাওয়া গিয়েছে ৫৩ লক্ষ টাকা। রয়েছে ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো ও ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম। ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার। বিএমডব্লিউ, অডি মিলিয়ে মোট ২৪২টি গাড়ি রয়েছে। শুভেন্দু আরও জানান, টুলুর মোট ২১টি সম্পত্তি রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ৭টি বাড়ি, ১টি ফার্মহাউস, ২টি পেট্রল পাম্প, ১টি পার্কিং, ২টি ক্রাশার। সবমিলিয়ে ৩০০ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে। ইতিমধ্যে পাহাড়প্রমাণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। টুলুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। টুলুর মাথায় প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত না থাকলে বিপুল সম্পত্তি থাকা সম্ভব নয় বলেও দাবি শুভেন্দু অধিকারীর। সেই টুলুর খোঁজে হন্যে তদন্তকারীরা। এই পরিস্থিতিতে হাই কোর্ট তাকে রক্ষাকবচ দেয় কিনা, সেটাই দেখার। 

You might also like!