
কলকাতা, ১৫ অক্টোবর : পশ্চিমবঙ্গে নবগঠিত সপ্তম বেতন কমিশন রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য তলব করেছে। এই মর্মে রাজ্য অর্থ সচিবকে চিঠি পাঠিয়ে কর্মচারীদের পদমর্যাদা, সার্ভিস এবং ক্যাডার সম্পর্কিত বিস্তারিত বিবরণ চেয়েছে কমিশন।
চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মূল সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত এবং পুরসভা-সহ যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের বেতন ও ভাতার ব্যয়ভার রাজ্য সরকার বহন করে, তাদের প্রত্যেকের তথ্য দ্রুত পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের এই তথ্য কমিশনের নির্ধারিত পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে জমা দিতে হবে; যার জন্য একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটও তৈরি করেছে কমিশন।
কমিশনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কর্মী সংগঠনগুলি। বেঙ্গল টিচার্স অ্যান্ড এডুকেশন ওয়ার্কার্স কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বৃহস্পতিবার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "সপ্তম বেতন কমিশন বিভিন্ন দফতরের কাছে কর্মচারীদের বেতনের তথ্য চেয়েছে ঠিকই, কিন্তু কত দিনের মধ্যে তা জমা দিতে হবে, সেই সময়সীমা স্পষ্ট করা হয়নি। নির্দিষ্ট সময়সীমা (ডেডলাইন) না থাকার কারণে অনেক দপ্তর ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য পাঠাতে দেরি করতে পারে। ফলে একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।"
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে প্রাক্তন আমলা নবীন প্রকাশের নেতৃত্বে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করে রাজ্য সরকার। অর্থ দফতরের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাঁচ সদস্যের পরিবারকে একক হিসেবে ধরা হবে। পাশাপাশি দৈনিক পুষ্টির চাহিদার পুরোনো মাপকাঠি ২৭০০ ক্যালরির বদলে ৩৪৯০ ক্যালরিকে নতুন মান হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কমিশনকে শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়—কাজের পরিবেশ, চাকরির শর্তাবলী, পদোন্নতি ও অবসরকালীন সুবিধার মতো বিষয়গুলিকেও সামগ্রিকভাবে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
