Bengali Dessert Trail: পুজোয় লাল দই নয়, চাই সাদা মিষ্টি দই? কলকাতার এই ৫ ঠিকানায় মিলবে চিনি পাতা দই

White Mishti Doi
White Mishti Doi

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর মরশুম মানেই জমিয়ে খাওয়াদাওয়া, আর সেই ভোজের শেষ পাতে মিষ্টি না হলে যেন তৃপ্তিই আসে না। কারও পছন্দ আইসক্রিম, কারও আবার রসগোল্লা, রাবড়ি কিংবা কুলফি। লস্যি ও মিষ্টি দইয়েরও চাহিদা কম নয়। তবে মিষ্টি দইয়ের কথা উঠলেই এখন দেখা যাচ্ছে অন্য ছবি। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে লাল মিষ্টি দই সহজে মিললেও, সাদা মিষ্টি দই বা চিনি পাতা দইয়ের খোঁজে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে মিষ্টিপ্রেমীদের।  যদি পুজোয় সাদা মিষ্টি দই খাওয়ার সাধ হয়, তা হলে পাঁচটি দোকানে ঘুরে আসতে পারেন। 

* নলিনচন্দ্র দাস অ্যান্ড সন্‌স— ৩১৩ রবীন্দ্র সরণি, নতুন বাজারের এই দোকানের বয়স ২১০ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। অষ্টম প্রজন্মের তপন দাস এবং তাঁর ভাইয়ের কাঁধে এই দোকানের ভার। নানা প্রকার মিষ্টান্নের পাশাপাশি নলিনচন্দ্র দাস অ্যান্ড সন্‌সের সাদা মিষ্টি দই খুব জনপ্রিয়। সেখানে চিনি পুড়িয়ে লাল মিষ্টি দইও বানানো হয়। তপন জানালেন, একটু বেশি ঘন বলে লাল দইটাই নাকি সেখানে বিক্রি হয় বেশি। সাদা দই দেখে অনেকের মনে হয়, তা বুঝি টক দই। কিন্তু যাঁরা সে দোকানের সাদা মিষ্টি দই খেয়েছেন, তাঁরা জানেন, চিনি পাতা দইয়ের স্বাদ কেমন হতে পারে! এই দইয়ের দাম সেখানে ৩০০ টাকা প্রতি কেজি। ১০০, ২৫০ এবং ৫০০ গ্রামের দইয়ের ভাঁড়ও পাওয়া যায়।

* কাশীনাথ পান— সূচনা ১৮৯৪ সালে। এখন দোকানের দায়িত্ব নিয়েছেন গণেশ পান। ১৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাদা মিষ্টি দই বানিয়ে আসছেন তাঁরা। হেদুয়া অঞ্চলে স্কটিশ চার্চ কলেজের কাছে অবস্থিত এই ছোট্ট দোকানে মিষ্টি দইয়ের জন্য লম্বা লাইন তৈরি হয়। ভিড় জমে ভ্লগারদেরও। সাদা ধবধবে মিষ্টি দইয়ে দুধের স্বাদ ও ঘ্রাণই আসল আকর্ষণ। ক্যারামেল করে তোলা চিনি সেখানে প্রাধান্য পায় না। ৩৫০ টাকা প্রতি কেজিতে সাদা দই পাবেন কাশীনাথ পানে গেলে।

* যাদবচন্দ্র দাস— ত্রিকোণ পার্কের কাছে ১২৭এ রাসবিহারী অ্যাভেনিউ হল এই দোকানের বর্তমান ঠিকানা। ঝামাপুকুরের ৬১, কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রিটের আদি দোকান কিছু দিনের জন্য বন্ধ রেখে নতুন করে বানানো হচ্ছে। ফলে সব ভিড় এখন দক্ষিণ কলকাতায়। যাদবচন্দ্র দাসের দোকানের রাবড়ি, প্যারাডাইস সন্দেশ, অমরপ্রেম সন্দেশের পাশাপাশি সাদা মিষ্টি দইয়ের কদরও চোখে পড়ার মতো। কিশোরকুমারের জন্য নাকি বিশেষ ভাবে এই দই পাতা হত। তা ছাড়া বলিউড, টলিউড থেকে সাহিত্যজগতের নামজাদা ব্যক্তিত্বেরাও সেখান থেকে সাদা দই ও সন্দেশ নিয়ে যেতেন। এই দোকানে সাদা মিষ্টি দই তৈরি হয় চিনি দিয়ে ভাল করে দুধ ফুটিয়ে দম্বলের সাহায্যে। কিন্তু এখন চিনির ধরন পাল্টেছে বলে শ্বেতশুভ্র রং পাওয়া যায় না। হালকা গোলাপি আভা এসেই যায়। কিন্তু কোনও ভাবেই চিনি পোড়ানো হয় না। ৩৬০ টাকা প্রতি কেজিতে দই মিলবে সেখানে।

* মিঠাই— ৪৮বি সৈয়দ আমির আলি অ্যাভেনিউয়ের ছোট্ট একটি দোকান। বয়স হয়েছে ৭২ বছর। কিন্তু সে দোকানের মিষ্টি খাওয়ার জন্য লম্বা লাইন চোখে পড়ার মতো। দোকানের একাধিক মালিকের মধ্যে একজন শমীন্দ্রকুমার ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, চিনির ধরন পাল্টানোর ফলে সাদা রঙে হালকা গোলাপি আভা ধরে। কিন্তু এ কথাও জেনে রাখা দরকার, প্রকৃত লাল দই বহু বছর ধরে বানানো বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ওই দই ভীষণ ভারী এবং ঘন হয়। কিন্তু সাদা দইয়েই এখন ধীরে ধীরে রং ধরতে শুরু করেছে। তা সে চিনি অল্প পোড়ানো হোক বা না হোক। এই দোকানে ৪০০ টাকা প্রতি কেজিতে দই খেতে পারবেন।

* ভীম নাগ’স ব্রাদার শ্রীনাথ নাগ— হালকা, মিষ্টি, সাদা দইয়ের টানে সল্টলেকে ছুটে যান অনেকেই। প্লট ৮২, ব্লক আইএ, সেক্টর ৩-এর এই দোকানে চিনি পাতা দই পাওয়া যায়। চিনি মেশানো দুধ ফুটিয়ে তৈরি হয় এই সাদা মিষ্টি দই। যে মিষ্টি বিক্রির সমস্ত কৃতিত্ব প্রায় উত্তর কলকাতা, তা কিন্তু সল্টলেকেও মিলতে পারে। পুজোর সময়ে কব্জি ডুবিয়ে খাবার খাওয়ার পর মিষ্টিমুখ করতে চলে যেতে পারেন ভীম নাগ’স ব্রাদার শ্রীনাথ নাগেও।

শেয়ার করুন:

You might also like!