
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর পর বাঙালির উৎসবের তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পার্বণ ভাইফোঁটা। ভাই-বোনের স্নেহ, ভালোবাসা ও অটুট বন্ধনের প্রতীক এই উৎসব। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এদিন বোনেরা ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে তাঁর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন। অন্যদিকে, ভাইয়েরাও বোনকে উপহার দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করেন। প্রতি বছরের মতো ২০২৬ সালেও ভাইফোঁটা ঘিরে রয়েছে নানা আয়োজন। কিন্তু এ বছর কবে পালিত হবে ভাইফোঁটা? ফোঁটা দেওয়ার সঠিক নিয়ম কী? এই উৎসবের ধর্মীয় মাহাত্ম্যই বা কী? জেনে নিন ভাইফোঁটা ২০২৬-এর দিনক্ষণ থেকে শুরু করে যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
ভাইফোঁটা ২০২৬: ভাইফোঁটা বিশেষ করে ভাই এবং বোনের মধ্যে উপহার আর আশীর্বাদ বিনিময়ের একটি বিশেষ উৎসব। এটি হিন্দু ধর্মের মধ্যেই পালিত হয়ে থাকে। সাধারণত বোনেরা ভাইদের কপালে ফোঁটা দিয়ে মিষ্টি খাইয়ে থাকে, আর ভাইরা সারাজীবন বোনের পাশে থাকার এবং সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে। অনেক পরিবারে ভাইফোঁটার সময় পূজা-পার্বণের আয়োজন করা হয়। এমনকি এদিন উপহার বিনিময়ের প্রথাও প্রচলিত রয়েছে।
ভাইফোঁটা ২০২৬ কত তারিখে? বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে ভাইফোঁটা পড়ছে—
ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ১১ নভেম্বর বুধবার।
বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই দিনটি পড়ছে আগামী ২৫ কার্তিক ১৪৩৩।
দ্বিতীয়া তিথি শুরু হচ্ছে ১০ নভেম্বর দুপুর ২:০১ মিনিটে।
দ্বিতীয়া তিথি শেষ হচ্ছে ১১ নভেম্বর বিকাল ৩:৫৪ মিনিটে।
ভাইফোঁটার আচার-অনুষ্ঠান এবং পূজাবিধি:
ভাইফোঁটার আচার-অনুষ্ঠান বিশেষ ভক্তি এবং আনন্দের সঙ্গেই পালন করা হয়। কারণ এটি সুরক্ষা, সমৃদ্ধি আর ভ্রাতৃত্বের পবিত্র এক বন্ধনের প্রতীক।
এদিন প্রথমে বোনেরা প্রদীপ, চন্দন, ধান-দূর্বা ইত্যাদি দিয়ে থালি সাজায়।
ভাই পূর্ব কিংবা উত্তর দিকে মুখ করে বসে এবং বোন তার কপালে ফোঁটা দিয়ে দেয়।
এরপর বোন তার ভাইয়ের দীর্ঘজীবন ও সুখের জন্য রক্ষামূলক মন্ত্র পাঠ করতে করতে আরতি করে।
এরপর ভাইরা তাদের বোনদের উপহার দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। দিদিদের ক্ষেত্রে ভাইদের প্রণাম করার প্রথাও প্রচলিত রয়েছে।
ভাইফোঁটার পূজার সামগ্রী: ভাইফোঁটার দিন অবশ্যই প্রদীপসহ পূজার থালি রাখতে হয়। এর পাশাপাশি চাল, ধান, দুর্বা, চন্দন, আলো জ্বালানোর জন্য ঘিয়ের প্রদীপ, নারকেল, মিষ্টি এবং ফল প্রয়োজন পড়ে।
বাংলা ভাইফোঁটার মন্ত্র: বাঙালিদের মধ্যে ভাইফোঁটার দিন একটি বিশেষ মন্ত্র পাঠ করে থাকে বোন বা দিদিরা। আর সেটি হল—
ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা,
জমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।
যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা,
আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা।।
ভাইফোঁটার ব্রত-বিধি: পরিবারের ভাইবোনরা ভাইফোঁটার শুভ মুহূর্ত আসা পর্যন্ত উপবাস পালন করে থাকে। শুভ সময়ে বোন তার ভাইদের কপালে তিলক পরিয়ে এবং তাকে একটি নারকেল উপহার দিয়ে পূজা করে। আচার-অনুষ্ঠানের পর তারা একসঙ্গে মিষ্টি খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করে। এছাড়া এই দিন উপহার বিনিময়ের প্রথা প্রচলিত রয়েছে। ভারত এবং নেপালজুড়ে ভাইফোঁটা ভিন্ন ভিন্ন নাম এবং রীতিনীতি অনুযায়ী পালিত হয়।
তবে বাংলায় মূলত এই দিনটি ভাইফোঁটা হিসেবেই পরিচিত। বোনরা তাদের ভাইদের সুরক্ষা আর দীর্ঘায়ু কামনার জন্য ঐতিহ্যবাহী মন্ত্র পাঠ করতে করতেই তাদের কপালে ফোঁটা পরিয়ে দেয়। এছাড়া দিনটিতে উৎসব ও ভোজের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি আনন্দ এবং পারিবারিক মিলনের মাধ্যমে এই দিনটিকে পালন করা হয়।
