CM Suvendu Adhikari: কৃষকদের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা শুভেন্দুর, আলু রপ্তানিতে ছাড় থেকে ক্ষতিপূরণ, জানুয়ারিতে চালু ‘ভরসা’ প্রকল্প

CM Suvendu Adhikari
CM Suvendu Adhikari

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বড় উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। বৃহস্পতিবার হুগলির পুরশুড়া থেকে ‘কিষাণ সম্মান নিধি’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি। প্রকল্প চালুর দিনেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায় আর্থিক সহায়তার কিস্তির টাকা। পাশাপাশি আগামী দিনে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতাতেও কৃষকরা সুবিধা পাবেন বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, আলুচাষিদের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও করেন শুভেন্দু। এবার থেকে রাজ্যের কৃষকরা ভিনরাজ্যেও আলু পাঠাতে পারবেন বলে জানান তিনি। 

এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বন্যায় যে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁরা পাবেন ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। আংশিক ও সামান্য ক্ষতিতে মিলবে যথাক্রমে ৯০০০০ হাজার ও চল্লিশ হাজার টাকা। বন্যায় বিপর্যস্ত ভুতনির চরের ১০ হাজার ৭৫০ জন কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে বীজ। ৪ লক্ষ কৃষককে বিদ্যুতে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪৬ লক্ষ কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিলেন তিনি। তাঁদের মধ্যে অনেকেই পিএম কিষাণ যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছেন। এদিন কৃষক বন্ধু প্রকল্পের কথাও বললেন মুখ্যমন্ত্রী। জানালেন, চল্লিশ শতকের বেশি জমি থাকলে বছরে কৃষকরা পাবেন ৬ হাজার টাকা। এই টাকা মিলবে ২ কিস্তিতে।  এদিন আলুচাষিদের উপর অত্যাচার প্রসঙ্গে মমতা সরকারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, “বিগত তৃণমূল সরকারে আমলে রাজ্যের আলু বাইরে যেত না। আলু নষ্ট হত। দাম পেতেন না কৃষকরা।” এরপরই আলুচাষিদের জন্য সুখবর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী। জানালেন, ভিনরাজ্যে আলু রপ্তানিতে কোনও বাধা থাকছে না। বরং গাড়ি বা ট্রেনে কুইন্টাল পিছু আলু রপ্তানিতে ৫০ টাকা ভুর্তকি মিলবে। তিনি আরও জানালেন, আলুকে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমার আওতায় এনে বীমার অংশটিও মকুব করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই অংশ মেটাবে।  

তৃণমূল সরকারে আলু চাষিদের মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল রপ্তানিতে। বৃহস্পতিবার পুরশুড়ায় শুভেন্দু অধিকারী সেই কথা তুলে ধরেন বলেন, “আলু উৎপাদন অতিরিক্ত হলে, ঝাড়খণ্ড, বিহার, আসাম, ইউপিতে পাঠাতেন তখন বারবার প্রত্যেক বছর সীমানা আটকে দিত। আমরা অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। কোনও আলু চাষির গাড়িকে কোনও বর্ডারে কেউ আটকাবে না।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে আলুর কালোবাজারি, উচিত মূল্য পাওয়া যেত না বলেও অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার থেকে তা হবে না বলে জানিয়ে বলেন, “প্রতি কুইন্টাল ১১২০ টাকার ফি বন্ড মূল্য হবে। তার থেকে যদি বাজারদর নেমে যায়, তার যে গ্যাপ তৈরি হবে, সেই ভর্তুকি দেবে সরকার। যত কোটি টাকা লাগুক, আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী দেবে।” ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যে মোট আলু উৎপাদন হয়েছে ১৪০ লক্ষ মেট্রিক টন। কোল্ড স্টোরেজগুলিতে ৭৫ লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি আলু মজুত করা হয়েছে। কোল্ড স্টোরেজে আজ পর্যন্ত, আলু বেরিয়েছে ৪৮ লক্ষ মেট্রিক টন। বিদ্যমান ২৭ লক্ষ মেট্রিক টন আলু, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে হিম ঘর থেকে বার করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আইন অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর অবধি তা বাড়ানো যেতে পারে। তবে আমরা আশা করব, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে, এই আলু পর্যায়ক্রমে বেরিয়ে যাবে।”

পালাবদলের পরই শিক্ষিত বেকারদের জন্য প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার হুগলির পুরশুড়া থেকে তিনি জানালেন, ২৩ নভেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ভরসা’ প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হবে। জানুয়ারি থেকে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষিত বেকাররা। গ্র্যাজুয়েট ও আন্ডার গ্র্যাজুয়েটরা পাবেন আবেদনের সুযোগ।  তৃণমূল জমানায় বেকারদের আর্থিক সাহায্যের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। বহু বেকার যুবসাথী প্রকল্পে মাসে ১৫০০ টাকা পেয়েছেন। পালাবদলের পরই আমজনতার মনে প্রশ্ন দানা বাঁধে, এরপর সেই টাকা মিলবে কি না। যদিও সেই সময়ই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বেকারদের পাশে থাকবে সরকার। তবে কবে থেকে প্রকল্প চালু হবে তা নিয়ে কোনও তথ্য মেলেনি। এবার জানা গেল, যুব সমাজকে ভরসা দিতে আগামী ২৩ তারিখ মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পে অনুমোদন দেবে। তারপর জানুয়ারী থেকে আবেদন করা যাবে। এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যতক্ষণ না চাকরি পান, সরকার পাশে থাকবে।”  যদিও কীভাবে আবেদন করতে হবে, আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা কী, তার কিছুই এখনও জানা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, আগামীতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে সরকারের তরফেই। বিস্তারিত না মিললেও মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় খুশি বেকার যুবক-যুবতীরা।     

শেয়ার করুন:

You might also like!

    লোড হচ্ছে…