
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে, ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে হামলার মুখে পড়েছিল তৎকালীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কনভয়। সেই ঘটনার প্রায় ছ’বছর পর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা ইমরান হাসান। বুধবার গভীর রাতে দেউলা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে উস্তি থানার পুলিশ। ধৃত ইমরান মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার যুব তৃণমূল সভাপতি ছিলেন। নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় তাঁর নাম জড়ানোর পাশাপাশি ভোটের আগে হুমকি দেওয়া, বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর অত্যাচার এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের মতো একাধিক অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই গ্রেপ্তারিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচন। একেবারে টানটান উত্তেজনা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে সভা করতে যাচ্ছিলেন জে পি নাড্ডা। সেই সময় তাঁর গাড়িতে দিলীপ ঘোষ-সহ কেন্দ্র এবং রাজ্যের একাধিক নেতা ছিলেন। অভিযোগ, অতর্কিতেই তাঁদের কনভয়ে লক্ষ্য করে চলে ইটবৃষ্টি। একের পর এক নেতার গাড়ি কার্যত টার্গেট করে ধেয়ে আসে লাঠি। শুধু তাই নয়, ইট মেরে দিলীপ ঘোষের গাড়ি ভেঙে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। ইটের আঘাতে গুরুতর আহত কেন্দ্রের বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় নয়, ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে প্রথমে সরিষা, পরে ফলতায় হামলার মুখে বিজেপি নেতাদের পড়তে হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় তোলপাড় হয় রাজ্য-রাজনীতি।
তৃণমূল আমলে এই ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার না হলেও রাজ্যে পালাবদলের পর গোটা ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। শুরু হয় মামলার তদন্ত। তদন্তে নেমেই মগরাহাট ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তৌসিফ আহমেদ মোল্লা ওরফে বাচ্চু, আরিফ হোসেন ও আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মূলত তাঁদের জেরা করেই সঞ্জীব মণ্ডল এবং রিপনের নাম সামনে আসে। গ্রেপ্তার করা হয় এই দুই নেতাকেও। সম্প্রতি প্রায় ৬ বছর আগের এই ঘটনায় জাহাঙ্গির খানকেও গ্রেপ্তার করেছে উস্তি থানার পুলিশ। এবার পুলিশের জালে ইমরান। এই ঘটনায় আর কারও যোগ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
