
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের সরিষায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হল ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা নগদ। জমি দুর্নীতি মামলার তদন্তে বেশ কিছুদিন আগেই অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে হেফাজতে নিয়েছিল ডায়মন্ড হারবার পুলিশ। এরপর এদিন সকালে তাঁকে সঙ্গে নিয়েই সরিষার ওই পার্টি অফিসে তল্লাশি অভিযান চালান তদন্তকারী আধিকারিকরা। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর সেখান থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। তবে পার্টি অফিসে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ কেন রাখা হয়েছিল এবং টাকার উৎস কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধার হওয়া অর্থের সঙ্গে জমি দুর্নীতি মামলার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় কালীঘাটের বাড়ি থেকে সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ, কোটি কোটি টাকায় সরকারি জমি বিক্রি করা হয়েছে। তদন্তের মধ্যেই ডায়মন্ড হারবার কালিতলা আশুতি থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাটি চুরির অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি। সেই মামলাতেই বেশ কিছুদিন সুমিতকে নিজেদের হেফাজতে নেয় জেলা পুলিশ। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে বলে খবর।
সেই তথ্যের ভিত্তিতে আজ, বুধবার সকাল থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানার সরিষায় একটি তৃণমূলের পার্টি অফিসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশি চলাকালীন পার্টি অফিসের ভিতরে থাকা একটি আলমারির মধ্যে একটি ব্যাগ দেখতে পান তদন্তকারী আধিকারিকরা। তা খুলতেই একেবারে চমকে ওঠেন তাঁরা। দেখেন, ব্যাগের মধ্যে থরে থরে রাখা টাকা।
এই প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) অভিষেক মজুমদার জানিয়েছেন, কালিতলা আশুতি থানার একটি মামলায় সুমিত রায় বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে। তাঁকে জেরা করে একটি সূত্র পাওয়া যায়। তার ভিত্তিতে এদিন একটি তল্লাশি চালানো হয় বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে। তল্লাশিতে প্রায় ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার হয়। তবে বিপুল এই টাকা কীভাবে কোথা থেকে এল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক হিসাবে পরিচিত ডায়মন্ড হারবারের পার্টি অফিস থেকে বিপুল এই টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন ঋত তৃণমূলের মুখপাত্র ঋজু দত্ত। তাঁর কটাক্ষ, তৃণমূল মানেই দুর্নীতি, কালো টাকা। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে আছে সেখানে টাকার পাহাড় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ঋজু।
