
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিন আগামী ৬ ডিসেম্বর ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন করে চাপানউতোর। এবার হুমায়ুনের বক্তব্যের পালটা কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল বিজেপি। জাতীয় সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে আইনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী জাতীয় সড়ক অবরোধ করা জামিন-অযোগ্য অপরাধ। অন্যদিকে, রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ আরও আক্রমণাত্মক সুরে হুমায়ুনকে ‘রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এমনকি তাঁকে ‘ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা উচিত’ বলেও মন্তব্য করেছেন শংকর। দুই বিজেপি নেতার এই পালটা আক্রমণে বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
রবিবার বেলডাঙা থেকে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির একমাত্র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর হুঁশিয়ারির সুরে বলেছিলেন, ‘‘বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার দিন জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে দেব। প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক পুলিশ প্রশাসন। এক মাস পাঁচ দিন পরে আমি আবার ঘোষণা করলাম, মুর্শিদাবাদের প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে রুখে নেবেন। ওই দিন আবার ৩৪ নং জাতীয় সড়ক, রেজিনগর থেকে বহরমপুর তিরিশ কিলোমিটার আমার কবজায় থাকবে। পুলিশ জানে, আমরা কেউ আইনশৃঙ্খলা ভাঙিনি, আগামী দিনেও ভাঙব না।”তাঁর এসব কথা নিয়ে ফের সমালোচনার ঝড় ওঠে। হিংসায় উসকানির অভিযোগও করেন কেউ কেউ। এবার এ প্রসঙ্গে তাঁকে আইনের কথা মনে করিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বললেন, ‘‘ভারতীয় ন্যয় সংহিতা অনুযায়ী, জাতীয় সড়ক অবরোধ করা জামিন-অযোগ্য অপরাধ। আমি ওঁকে (হুমায়ুন কবীর) বলতে চাই, এধরনের ভাবনা থেকে সরে আসুন। আরও একটা কথা বলতে চাই। বাবরকে বাদ দিন। অন্য যে কারও নামে মসজিদ করুন, বাবরের নামে নয়।” সুকান্তর নরম সুর অনেকটাই চড়িয়েছেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ। তাঁর কথায়, উনি প্রাসঙ্গিক নন। এসব মানুষকে আস্তাকুঁড়েতে ছুড়ে ফেলতে হয়। ওঁর সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতেই ইচ্ছে করে না।”
