
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: উৎসবের আনন্দে যখন মেতে উঠেছিল গোটা বাংলা, তখনই সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগানে ঘটে যায় ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা। প্রাণ হারান ১৯ জন। সেই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ঘটনাটিকে ‘ছোট ঘটনা’ বা ষড়যন্ত্র বলে খাটো করে দেখা হবে না। তাঁর আশ্বাস ছিল, তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে দায় প্রমাণিত হবে, কাউকেই আড়াল করবে না রাজ্য সরকার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। কিন্তু এবার সেই চোরবাগান কাণ্ডকেই ‘ছোট ঘটনা’ বলে মন্তব্য করে বিতর্কের কেন্দ্রে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। তাঁর মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্পিকারের বক্তব্যের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধী শিবিরও।
আজ সোমবার, সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান স্পিকার রথীনাথ বসু। সেখানেই চোরবাগানের ঘটনাকে ‘ছোট্ট ঘটনা’ বলে কার্যত বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন। তিনি বলেন, ”আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। আমরা সবাই আনন্দ করেছি। ছোট একটা ঘটনা ঘটেছিল, সেজন্য জন্য মনটা ভারাক্রান্ত হয়েছিল। এরপরেও বিজয়া দশমী করি। সবাই মিলিত হই। এটাই আমাদের প্রথা।” আর এখানেই প্রশ্ন, যেখানে এতবড় ঘটনাকে ছোট ঘটনা কিংবা ষড়যন্ত্র বলতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী, সেখানে কীভাবে স্পিকার এহেন মন্তব্য করলেন!
পার্কস্ট্রিট-কাণ্ডের পর ‘গ*ণ*ধ*র্ষ*ণ’কে ‘ছোট ঘটনা’ বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এহেন মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই একাধিক সময়ে সুর চড়িয়েছেন বিজেপির শীর্ষনেতারা। কিন্তু বদলের বাংলায় দুর্গাপুজো ছিল বিজেপি সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সেই পুজোতেই বড় বিপর্যয়। এতগুলো মানুষের মৃত্যু। ঘটনার পরে ঘরে বসে নয়, একেবারে পথে নেমে পরিস্থিতির সামাল দেন মুখ্যমন্ত্রী। কখনও হাসপাতাল আবার কখনও চোরাবাগান ছুটে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কেউ দায়ী থাকলেও কড়া শাস্তির আওতায় আনা হবে। এজন্য মুখ্যমন্ত্রী যে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে পুলিশ কিংবা পুরসভার কোনও প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি। এখানেই শেষ নয়, প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে সিট গঠন করেছে সরকার।
