
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:সহকর্মীদের নিয়ে দিল্লি পুলিশের সদর দফতরের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পরই শাস্তির মুখে পড়লেন অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার (এসিপি) মানস্বী বশিষ্ঠ। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে খবর। সোমবার নিজের বদলির প্রতিবাদে এবং শাহদরা থানার এসএইচও অরুণ কুমারের বদলির নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সদর দফতরের বাইরে সহকর্মীদের নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন তিনি। সেই কর্মসূচিতে প্রায় ৫০০ পুলিশকর্মী যোগ দেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন। যদিও দিল্লি পুলিশ এই জমায়েতকে ‘সম্পর্ক সভা’ বা মতবিনিময় কর্মসূচি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তবে বিক্ষোভের পরদিনই এসিপি-র বিরুদ্ধে সাসপেনশনের পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি গাঁধীনগরে এসিপি বশিষ্ঠকে বদলি করা হয়। এ ছাড়াও বদলি করা হয়েছে শাহদরা থানার এসএইচও অরুণ কুমারকে। তাঁরা দু’জনেই এই প্রতিবাদ, বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন বলে সূত্রের খবর। ঘটনার সূত্রপাত ললিত বনশল নামে এক আইনজীবীর গ্রেফতারি এবং তাঁর উপর হামলার অভিযোগকে ঘিরে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত সপ্তাহে শাহদরা থানায় বিক্ষোভ দেখান আইনজীবীরা। অনির্দিষ্ট কালের জন্য হরতালের ডাক দেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বনশলের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে শাহদরা থানায় দিয়েছিলেন কয়েক জন। অভিযোগ, সেই সব আইনজীবীকে হুমকি দিচ্ছিলেন এসিপি এবং এসএইচও। পুলিশ এবং আইনজীবীদের মধ্যে একটা টানাপড়েন শুরু হয়। আইনজীবীরা দাবি জানান, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে, না হলে তাঁরা আন্দোলনে নামবেন। এসিপি এবং এসএইচও-র বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাঁদের দু’জনকেই বদলি করা হয়। তাঁদের প্রতি অন্যায় হয়েছে এই অভিযোগ তুলে পাল্টা বিক্ষোভে নামেন এসিপি, এসএইচও এবং তাঁদের সহকর্মীরা। পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার দাবি জানিয়ে সদর দফতরের কাছে বিক্ষোভ দেখান এসিপি এবং তাঁর সহকর্মীরা। প্রায় ১৫০ পুলিশকর্মী সদর দফতরের বাইরে বিক্ষোভে শামিল হন। সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসিপি এবং শাহদরার এসএইও-কে সাসপেন্ড করা হল।
প্রতিবাদী পুলিশকর্মীদের দাবি ছিল, দুই পুলিশ অফিসারকে তাঁদের আগের কর্মস্থলে ফেরাতে হবে। যে আইনজীবীরা শাহদরা থানায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, প্রতিবাদী পুলিশকর্মীদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে যাতে তাঁদের মনোবল অটুট থাকে। কিন্তু ঘটনাচক্রে দেখা গেল, সেই প্রতিবাদের জন্য ‘শাস্তির খাঁড়া’ নেমে এল দুই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধেই।
