
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব নিয়ে জল্পনা দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো, গান্ধী পরিবারের দুই সদস্য রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মধ্যেও নাকি মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিল একটি ঘটনা। সভার বক্তাদের তালিকায় জায়গা পেলেন না প্রিয়াঙ্কা। বিষয়টি নিয়েই রাহুলকে নিশানা করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, বোনের রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রাহুল। প্রিয়াঙ্কাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে তুলে ধরা হলে কংগ্রেসের অন্দরে তাঁর নিজের গুরুত্ব কমে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই তাঁকে বক্তৃতার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে দাবি বিজেপির। শুধু তাই নয়, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে ঘিরে কংগ্রেসের ভিতরে পৃথক দুটি শিবির তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের।
‘ভোটচুরি’ অভিযোগ এবং জ্ঞনেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে রবিবার রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করেন ইন্ডিয়া জোট। সেখান থেকেই বিজেপিকে নিশানা করেন রাহুল। তিনি দাবি করেন, এসআইআরে সাড়ে ১৩ কোটি ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। দেশের প্রতি সাতজন ভোটারের মধ্যে একজন বাদ পড়েন। এই হিসাবে এনডিএ-র জয়কে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন কংগ্রেস নেতা। তিনি পরিসংখ্যান দেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ‘এনডিএ’র সঙ্গে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভোট পার্থক্য ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। সেই হিসাবে ২০২৪-এ এনডিএ তথা বিজেপির, নরেন্দ্র মোদির পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হওয়াকে ‘বেআইনি’ বলে দাবি করেন রাহুল গান্ধী।
রাহুলকে পালটা জবাব দিয়েছেন বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। তাঁর দাবি, গান্ধী পরিবারের অন্দরে প্রিয়াঙ্কার ‘ভোটচুরি’ হয়ে গিয়েছে। নকল সংসদ এবং রামলীলার কর্মসূচিতেও প্রিয়াঙ্কাকে অসন্তুষ্ট দেখাচ্ছিল বলেও দাবি করেছেন সম্বিত। তিনি বলেন, “রাহুলের নেতৃত্বে আয়োজিত কংগ্রেসের নকল সংসদে প্রিয়াঙ্কাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সাংসদ নন এমন ব্যক্তিরা সেখানে ভাষণ দিয়েছিলেন।” তিনি আরও বলেন, “রামলীলা ময়দানের জনসভাতেও সবাই নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন। কিন্তু সেখানেও তাঁকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁকে অসন্তুষ্ট মনে হচ্ছিল।”
প্রসঙ্গত, রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। গান্ধী পরিবারের দুই সন্তানের মধ্যে বরাবরের সুসম্পর্ক। রাজনীতির লড়াইয়ে যেখানে বহু পরিবারের অন্দরে ফাটল ধরেছে, ভাইয়ে-ভাইয়ে, ভাইয়ে-বোনে ক্ষমতা দখলের লড়াই চলেছে, সেখানে রাহুল গান্ধী-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ব্যতিক্রমী। তাঁদের সৌহার্দ্যের ছবি বারবার প্রকাশ্যেও দেখা গিয়েছে। কখনও প্রকাশ্যে আলিঙ্গন, কখনও স্নেহচুম্বন। এসব ক্যামেরাবন্দিও হয়েছে। যখনই কোনও একজনের উপর আক্রমণ এসেছে, তখনই আর একজন পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাহুলের এই জার্মানি সফর নিয়ে বিজেপি যখন তোপ দেগেছিল, তখনও প্রিয়াঙ্কা তাঁর পাশে দাঁড়ান। আবার সংসদে বন্দে মাতরম নিয়ে বিতর্কে প্রিয়াঙ্কার চর্চিত ভাষণের ভূয়সী প্রশংসা করেন রাহুল।
