Dhirendra Krishna Shastri | ‘কৃষ্ণ বাঁকা, রাম সোজা’, দুই দেবতার তুলনা টেনে সমালোচনার মুখে বাগেশ্বর বাবা

Dhirendra Krishna Shastri
Dhirendra Krishna Shastri

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: খাওয়াদাওয়া নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর এবার ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ঘিরে মন্তব্য করে নতুন করে সমালোচনার মুখে বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা। মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার করেরায় একটি রামকথা অনুষ্ঠানে ভগবান রাম ও শ্রীকৃষ্ণের তুলনা করতে গিয়ে কৃষ্ণের শারীরিক ভঙ্গিমা এবং বাঁশি বাজানো নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “বাঁশি বাজানো কোনও বড় বিষয় নয়, ধনুক চালানোই আসল।” এই মন্তব্যের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মথুরা ও ব্রজ অঞ্চলের একাধিক সাধুসন্ত। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের তুলনা ভক্তদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করতে পারে। বিতর্ক বাড়তেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। তাঁর দাবি, রাম ও কৃষ্ণের মধ্যে কোনও বিভেদ তৈরি করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তবে ক্ষমা চাওয়ার পরেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।

মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে ‘রামকথা’ অনুষ্ঠানে বাগেশ্বর বাবা রাম ও কৃষ্ণের তুলনা করছিলেন। সেসময়ই বিতর্কিত সব মন্তব্য করে বসেন তিনি। শ্রীকৃষ্ণের বংশীধারী মূর্তি নিয়ে অশ্রদ্ধাপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘তোমাদের কৃষ্ণ তো বাঁকা, আমাদের রামকে দেখো। তিনি চলেন সোজা, কাজ করেন সোজা, তাঁর নামটাও অতি সহজ। নিজের দৃঢ়তা বজায় রাখেন সবক্ষেত্রে। আর কৃষ্ণের মূর্তি দেখো। ঘাড়, কোমর বাঁকিয়ে বাঁশি বাজাচ্ছেন! বাঁশি যে কেউ বাজাতে পারে, ভগবানের কাছে ওসব কোনও ব্যাপার নয়। আর বাঁশি কোনও কাজে লাগে না, রামের ধনুকই আসল।” তাঁর বক্তব্যের এই ভিডিও রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর এসব মন্তব্যে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কৃষ্ণভূমি মথুরা-বৃন্দাবন। প্রবল নিন্দা শুরু হয়। একজন দেবতাকে নিয়ে জনসমক্ষে কোনও বক্তব্য রাখতে গেলে অনেক সাবধানী হতে হয় বলে মতপ্রকাশ করেন মথুরার হিন্দু সন্ন্যাসীরা। কারণ, আপামর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে কৃষ্ণকে নিয়ে অন্য আবেগ রয়েছে। তাঁদের কারও কারও কাছে বালক কৃষ্ণ ঘরের সন্তানের মতো। তাছাড়া কৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনামের মতোই তাঁর বহুবিধ রূপ। বংশীধারীকে নিয়ে এমন মন্তব্যে সেই রূপকেই অপমান করা হয়েছে বলে মত মথুরার সন্ন্যাসীদের। এসবের জেরে বেশ চাপে পড়েন বাগেশ্বর বাবা। তারপরই তড়িঘড়ি ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি।

শেয়ার করুন:

You might also like!

    লোড হচ্ছে…