
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: এসআইআর, ফর্ম ১৬ এবং একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ-সহ একাধিক ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলাগুলিকে একত্রিত করে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হয়। আপাতত এই মামলাগুলিতে কিছুটা স্বস্তি পেলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি, বাকি অভিযোগগুলি নিয়েও কমিশনের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কার্যপদ্ধতি এবং এসআইআর-সংক্রান্ত ফর্মে আনা পরিবর্তনকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে পিটিশন দায়ের হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার জমা দেয় কমিশন। সেখানে বলা হয়, উত্থাপিত অভিযোগগুলি সম্পূর্ণভাবে একটিমাত্র সংবাদ প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।কমিশন স্পষ্ট করেছে, কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত, পরামর্শ, পর্যবেক্ষণ, ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বা প্রশ্ন – সবকিছুই বিবেচনা করা হয়। সুতরাং, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনারদের মতামতও বিবেচনায় থাকে।
এই হলফনামা মেলার পর মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুরু হয় শুনানি। ফর্ম ৬ ইস্যুতে সওয়াল করেন রাজ্যসভা সাংসদ মেনকা গুরুস্বামী। পালটা কমিশনের আইনজীবী জানান, এই নিয়ে সওয়াল চলতে পারে না কারণ প্রসঙ্গ থেকে একেবারে সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে হলফনামা জমা দিতে চেয়ে শীর্ষ আদালতের কাছে সময় চেয়ে নিয়েছেন কমিশনের আইনজীবী। তাঁদের জন্য দু’সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ততদিন পর্যন্ত শুনানি স্থগিত থাকবে। আগামী ১৭ নভেম্বর ফের শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে।
উল্লেখ্য, ভোটারের নাম তোলার ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন সংক্রান্ত অভিযোগগুলিও খারিজ করে দিয়েছে কমিশন। তারা স্পষ্ট করেছে, এসআইআর সংক্রান্ত তিনটি নির্দেশের কোনওটির ফলেই ফর্ম ৬-এ কোনও পরিবর্তন আসেনি। এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত ঘোষণাটি ছিল স্বতন্ত্র। তবে, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্বীকার করে কমিশন জানিয়েছে, অনলাইনে ঘোষণাটি যেভাবে প্রদর্শিত হয়েছিল, তা দেখে মনে হতে পারে যে ফর্মটিতে সংশোধন আনা হয়েছে।
