SC on Drug Price Markup: ১১ হাজার টাকার ওষুধের দাম ১.৩০ লক্ষ! হাসপাতালগুলির ভূমিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা

Supreme Court Questions Cancer Drug Price Markup
Supreme Court Questions Cancer Drug Price Markup

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: জীবনদায়ী ওষুধের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। অভিযোগ, ডিলারের কাছ থেকে যে দামে ওষুধ কেনা হচ্ছে, তার তুলনায় কয়েক গুণ নয়, হাজার গুণ বেশি দামেও তা বিক্রি করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলির এই বিপুল মুনাফার প্রবণতাকে কার্যত ‘ডাকাতি’ বলে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। কেন্দ্রীয় সরকারের নজরদারির মধ্যেও এমন ঘটনা কীভাবে ঘটছে এবং কেন এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, “হাসপাতাল অন্য উপায়েও চলতে পারে, এই ডাকাতির মাধ্যমে নয়।” 

চিকিৎসায় নামে রোগীর পরিবারগুলিকে লুট করার অভিযোগ বেসরকারি হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে নতুন কিছু নয়। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত এক মামলার শুনানি চলছিল সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে। সেখানে একটি ঘটনা সামনে আসে। যেখানে এক ওষুধ ব্যবসায়ীর স্ত্রী এক নামী বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসায় একটি ইনজেকশনের দাম হাসপাতালের তরফে ধার্য করা হয় ১.৩০ লক্ষ টাকা। অথচ এই ইনজেকশনের ডিলার মূল্য ছিল ১১ হাজার টাকা। ওই ব্যবসায়ী ওষুধটি বাইরে থেকে এনে দেওয়ার কথা বললেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাইরে থেকে ওষুধ আনতে নিষেধ করেন এবং ১.৩০ লক্ষ টাকা বিল করেন। 

এই ঘটনায় কেন্দ্রকে একহাত নেয় সুপ্রিম বেঞ্চ। কেন্দ্রের উদ্দেশে আদালতের প্রশ্ন, ‘এই ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা কি মেনে নেওয়া যায়? ঘটনার কোনও যুক্তি দেখাতে পারেন? এই টাকা কোথায় যাচ্ছে?’ ওষুধের মূল্য সংক্রান্ত দুটি মামলার শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালত ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (এনপিপিএ)-এর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটিকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বলে মনে হচ্ছে। আদালত আরও বলে, কেন্দ্র নিজের হলফনামাতেই জানিয়েছে, ক্যানসারের ওষুধে হাসপাতালগুলি ১৭০ থেকে ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত ও অন্যন্য সামগ্রীতে ১০০ থেকে ১০০০ শতাংশ পর্যন্ত লাভ করছে। ১১ থেকে ১৫ টাকার স্যালাইনে রোগীর থেকে নেওয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা। একটি কার্ডিয়াক সেন্টের দাম ৫০০০ টাকা হলেও হাসপাতাল ২৫০০০-এর বেশি দাম নিচ্ছে।

এই ঘটনায় হাসপাতালের পক্ষের আইনজীবী মুকুল রোহতগি বলেন, ওষুধের গুণমান বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা। তবে আদালত সেই যুক্তি মানতে নারাজ। কেন্দ্রের যুক্তি, ওষুধের দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সরকারের মতে, এই ব্যবসায় পর্যাপ্ত মুনাফা প্রত্যন্ত অঞ্চলে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। পালটা আদালত জানায়, ড্রাগ প্রাইস কন্ট্রোল অর্ডার (ডিপিসিও)-এর আওতাভুক্ত ওষুধ যদি রোগীদের কাছে না পৌঁছায়, তবে সেগুলি সহজলভ্য করার দায়িত্ব সরকারের। এই মামলায় রায় সংরক্ষিত রেখেছে শীর্ষ আদালত।


শেয়ার করুন:

You might also like!

    লোড হচ্ছে…