Nitin Gadkari | পেট্রোলে ইথানলের ব্যবহার বাড়াতে বড় পদক্ষেপ, E20 বিতর্কে এবার সরব নিতিন গডকরী

Nitin Gadkari
Nitin Gadkari

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো বা E20 জ্বালানি নিয়ে কয়েক মাস আগে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্ককে ‘পেড ক্যাম্পেন’ বা অর্থের বিনিময়ে চালানো প্রচার বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতীন গডকরী। মঙ্গলবার কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ়ের (CII) এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, E20 জ্বালানির বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে প্রচার চালানো হয়েছিল। এই মন্তব্যের ঠিক আগেই E100 অর্থাৎ ১০০ শতাংশ ইথানল ব্যবহারে সক্ষম ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির জন্য নিয়মে সংশোধন এনেছে কেন্দ্র। তবে এই জ্বালানি কেবল বিশেষভাবে তৈরি উপযুক্ত গাড়িতেই ব্যবহার করা যাবে; সাধারণ পেট্রলচালিত গাড়ির জন্য নয়। ফলে ইথানলভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগ এবং E20 নিয়ে পুরনো বিতর্ক ফের আলোচনায় উঠে এসেছে।

গত কালই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ১৯৮৯ সালের কেন্দ্রীয় মোটর গাড়ি আইনে সংশোধন এনে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এর ফলে দেশের রাস্তায় এ বার থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল বা ই১০০ চালিত ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি চালানো আইনের দিক থেকে বৈধ হয়ে গিয়েছে। এর ঠিক পরের দিনই নিতীন জানান, কয়েক মাস আগে ই২০ জ্বালানির বিরুদ্ধে বড় শোরগোল তোলা হলেও বর্তমানে সেই ক্ষোভ বা প্রতিবাদের ঝড় সম্পূর্ণ থেমে গিয়েছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “তিন মাস আগে ই২০ জ্বালানির বিরুদ্ধে বড় গলায় প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন অনেকে, এখন সেই ক্ষোভ মিলিয়ে গিয়েছে... আসলে ওটা একটা পেড ক্যাম্পেন ছিল।”

বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উপর দেশের অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘদিন ধরেই বিকল্প জ্বালানি তথা ইথানলের ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি খাড়া করে আসছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এ দিন তিনি ফের সেই বার্তার পুনরাবৃত্তি করে জানান যে, বিকল্প জ্বালানির পরিধি বাড়লে দেশের বিপুল পরিমাণ সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি, জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমলে অর্থনীতি ও পরিবেশ, উভয় দিক থেকেই বড় ধরনের সুফল মিলবে বলে মত প্রকাশ করেছেন তিনি।

ই২০ জ্বালানির ব্যবহারের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি যুক্তি ছিল বিশেষজ্ঞদের। ইথানলের শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা সাধারণ পেট্রোলের চেয়ে কম হওয়ায় গাড়ি ও বাইকের মাইলেজ ২ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। ২০২৩ সালের আগের তৈরি গাড়িগুলি এই জ্বালানির উপযোগী নয়। ফলে ইঞ্জিনে জং ধরা এবং ফুয়েল পাইপ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। অতিরিক্ত ইথানল তৈরির জন্য প্রচুর ভুট্টা, চাল ও আখ চাষ করতে হচ্ছিল। ফলে ভূগর্ভস্থ জলে টান পড়ছিল। তাই খাদ্যশস্যের দাম বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করেছিলেন অনেকে।সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জাতীয় সড়কের বেহাল দশা নিয়ে সমাজমাধ্যমে নানা অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন নিতীন। তিনি জানান, সড়কের মান নিয়ে তিনি কোনও অবস্থাতেই আপস করতে রাজি নন। সম্প্রতি প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০টি হাইওয়ে প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখেছেন তিনি। আগামী দু’বছরের মধ্যে জাতীয় সড়ক দিয়ে যাতায়াতে আর কোনও দুর্ভোগ পোহাতে হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।

শেয়ার করুন:

You might also like!

    লোড হচ্ছে…