
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দূর্গাপুজোর বিদায়বেলায় মনখারাপ থাকলেও বিজয়ার আনন্দে মেতে ওঠেন বাঙালিরা। তার পরেই শুরু হয় পরবর্তী উৎসবের প্রস্তুতি। কোজাগরী পূর্ণিমায় ঘরে ঘরে এবং মণ্ডপে মণ্ডপে পূজিত হবেন দেবী লক্ষ্মী। তাই লক্ষ্মীপুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা আয়োজন। লক্ষ্মীপুজোয় রয়েছে বেশ কিছু প্রচলিত আচার ও নিয়ম। পুজোর প্রস্তুতি নেওয়ার আগে জেনে নিন, কীভাবে সাজাবেন পুজোর স্থান, ঘট স্থাপনের সময় কোন বিষয়গুলিতে নজর দেবেন এবং ভোগ নিবেদনের ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম মেনে চলবেন।
প্রথমেই পুজোর জায়গাটি পরিষ্কার করে নিতে হবে। যেখানে দেবীর প্রতিমা বা ছবি রেখে পুজো করা হবে, সেখানে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করে নেওয়ার রীতি রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মাথাতেও গঙ্গাজল ছিটিয়ে নেওয়া হয়। এর পর পুজোর জায়গায় আলপনা দিতে হবে। বাড়িতে পুজো হলে ঠাকুরঘরের বাইরেও আলপনা দেওয়া যেতে পারে। বাড়ির সদর দরজায় আলপনা দেওয়ারও প্রচলন রয়েছে। আলপনায় দেবী লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ রাখার রীতিও বহু বাড়িতে দেখা যায়।
এর পর ঘট স্থাপনের পালা। একটি তামার ঘটে সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন এঁকে নিতে হবে। তার পর মাটির ডেলার উপর ঘট বসানোর রীতি রয়েছে। গঙ্গামাটি ব্যবহার করা হলে ভাল। ঘটে গঙ্গাজল দিয়ে তার মধ্যে আম্রপল্লব রাখতে হবে। দেবীর ভোগ প্রস্তুত করাও পুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভোগের সঙ্গে ফল, মিষ্টি ও নাড়ু নিবেদন করার প্রচলন রয়েছে। পুজোর নৈবেদ্য সাজিয়ে ফুল ও মালার ব্যবস্থাও করে রাখতে হবে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী লক্ষ্মী শান্ত পরিবেশ পছন্দ করেন। তাই কাঁসর-ঘণ্টার বদলে শঙ্খ ব্যবহারের কথা বলা হয়।
বাড়িতে পুরোহিত এলে তাঁকে সম্মান জানানোর রীতিও রয়েছে। তবে নারায়ণকে যেখানে রাখা হয়েছে, সেখানে তাঁকে স্পর্শ না করে পুরোহিতকে নির্দিষ্ট স্থানে নারায়ণ প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ দিতে হবে। তার পর পা ধোওয়ানোর রীতি পালন করা যেতে পারে। যিনি দেবীর পুষ্পাঞ্জলি দেবেন, তাঁর নির্জলা উপোস থাকার প্রচলন রয়েছে। তবে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় পুরোহিত পাওয়া সব সময় সহজ হয় না। সে ক্ষেত্রে বাড়িতেও পুজো করা যেতে পারে। স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র পরতে হবে। গঙ্গাজল ছিটিয়ে পুজোর জায়গা শুদ্ধ করে প্রথমে নারায়ণকে স্মরণ করার রীতি রয়েছে। ঘট স্থাপনের পর মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দেবীকে আহ্বান করা হয়। মন্ত্র জানা না থাকলে ভুল উচ্চারণ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে ভক্তিভরে দেবীকে স্মরণ করা যায়। লক্ষ্মীপাঁচালিতেও পুজোর নানা আচার ও মন্ত্রের উল্লেখ রয়েছে।
পুজোর বাসনপত্র বাছার ক্ষেত্রেও কিছু প্রচলিত বিধিনিষেধ রয়েছে। এই পুজোয় লোহার বাসন এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে। তার বদলে পিতল বা কাঁসার বাসন ব্যবহার করা যেতে পারে। পুজোয় তুলসীপাতা ব্যবহার না করারও প্রচলন রয়েছে। পুজোয় বসে মা লক্ষ্মী ও নারায়ণকে স্মরণ করে ঘটে ফুল নিবেদন করতে হবে। পুজোর শেষে তিন বার পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে নিজের মনস্কামনা দেবীর কাছে জানাতে পারেন। তার পর লক্ষ্মীপাঁচালি পাঠের মাধ্যমে পুজো শেষ করার রীতি রয়েছে।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, আচার-অনুষ্ঠানের নিয়ম পরিবার, অঞ্চল ও পারিবারিক প্রথা অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। কোনও নিয়ম না মানলেই বড় বিপদ হবে—এমন দাবির নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করাই মূল কথা।
