
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: কলাবাগানের নির্জন পথে একদিন বালিকার রূপে দেবীর দর্শন পেয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র ঘোষাল। দেবীর কাছে এগিয়ে যেতেই আচমকা অদৃশ্য হয়ে যান তিনি। সেই রাতেই ঈশ্বরচন্দ্র স্বপ্নাদেশ পান বলে পারিবারিক ঐতিহ্যে প্রচলিত রয়েছে। এরপর দেবীর নির্দেশ মেনেই শুরু হয় তাঁর আরাধনা। সেই ১৬৫৫ সাল থেকে আজও পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের কোলসরা গ্রামে নিষ্ঠার সঙ্গে দুর্গাপুজো করে আসছে ঘোষাল পরিবার। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা লোককথা ও বিশ্বাস। একসময় এই পুজোয় বলিপ্রথাও চালু ছিল। তবে একটি ভুলের কারণে সেই প্রথা বন্ধ হয়ে যায় বলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রচলিত কাহিনি রয়েছে। এরপরই পুজোর পুরোহিতের অকালমৃত্যু ঘটে বলে জানা যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই এই পুজোর ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে আরও এক রহস্যময় অধ্যায়।
ঈশ্বরচন্দ্রের বিশ্বাস কলা বাগানে দর্শন পাওয়া বালিকাই দেবী দুর্গা। কলাবাগানে দেবীর দর্শন পাওয়ায় পুজোয় কলা, মোচা ও থোরের ভোগ দেওয়ার রীতি এই পুজোয়। জন্মাষ্টমীতে ঠাকুরদালানে একচালার দেবীর কাঠামোর প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয়। প্রতিপদ থেকে শুরু হয় দেবীর পুজো। ৯দিন ধরে পুজো চলে। ডাকের সাজে সজ্জিত থাকেন দেবী। মহালয়ার দিন থেকে দশমীর দিন পর্যন্ত দেবীকে দেওয়া হয় কলা, থোড় ও মোচার ভোগ। আর এইসব ভোগ রান্না করা হয় গঙ্গাজল দিয়ে। এই পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সমীর ঘোষাল জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষ ভূকৈলাশের রাজ বংশধর ছিলেন। দশমীতে ১১ কুমারী পুজো হয়ে থাকে এই পুজোয়।
একসময় এখানে বলিদান প্রথা ছিল। একটি দুর্ঘটনার পর থেকে সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরের তোপধ্বনী শুনে এখানে বলিদানের রীতি ছিল। বহু বছর আগে সর্বমঙ্গলার তোপধ্বনীর আগেই এলাকারই কোনও গ্রামে বাজি ফাটিয়ে দেওয়া হয়। যা শুনে এই পরিবার বলিদান করে দেয়। কিছু পরেই অবশ্য ভুল ভাঙে সর্বমঙ্গলার তোপধ্বনী হওয়ার পর। এই ভুলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে চাপিয়ে নেন পুরোহিত। কয়েকদিনের মধ্যে সেই পুরোহিতের অকালমৃত্যু হয়। তারপর থেকে এখানে বলিদান প্রথা বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিবারের পূর্বপুরুষ দিগম্বর ঘোষাল ছিলেন শেরশাহের বিশ্বস্ত কর্মচারী। ১৫৪০ খ্রীস্টাব্দে জিটি রোড নির্মাণের সময় শেরশাহ তাঁকে কাজের দেখভাল করার জন্য এখানে পাঠিয়েছিলেন। সেই থেকে ঘোষাল পরিবার কোলসরায় বসবাস শুরু করেন। দিগম্বরের প্রপৌত্র ঈশ্বরচন্দ্র ঘোষাল। তিনি দুর্গাপুজোর প্রচলন করেছিলেন।
