
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: এসআইআরকে ঘিরে ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দিল ‘ইন্ডি’ জোট। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এই কর্মসূচিতে সামিল হয়েছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। যোগ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, একাধিক বাম নেতা এবং সমাজবাদী পার্টির নেতাকর্মীরাও। বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে, ঠিক তখনই সাংবাদিক সম্মেলন করে পাল্টা আক্রমণে নামে বিজেপি। বিরোধী জোটকে ‘বিদেশি শক্তির হাতের পুতুল’ বলে কটাক্ষ করে শাসকদলের নেতারা।
রবিবারই ‘সুপ্রিম কোর্ট অভিযান’-এর কথা ঘোষণা করেছিল বিরোধী শিবির ‘ইন্ডিয়া’ জোট। ঠিক হয়েছিল সর্বোচ্চ আদালতে গিয়ে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেবেন রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী শীর্ষনেতারা। যদিও গতকাল রাতেই প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের সময় দিতে পারবেন না তিনি। পাশাপাশি জানান, তারা (ইন্ডি জোট) যে বিষয় উত্থাপন করার পরিকল্পনা করেছেন, সেগুলি ইতিমধ্যে বিচারাধীন এবং সুপ্রিম কোর্টে সেগুলির শুনানি চলছে। আদালত রাজনীতি করার জায়গা নয় বলেও বার্তা দেন তিনি।
এরপরেও কিন্তু ‘সুপ্রিম কোর্ট অভিযান’ বাতিল করেনি ইন্ডি জোট। ইতিমধ্যে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ শীর্ষ নেতা আদালতের পথে যাত্রা করেছেন। এদিনের অভিযান সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সেই মানুষের জন্য আমরা বিচার চাই।” জানা গিয়েছে, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা না হলেও সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে একটি পিটিশন জমা দেবেন বিরোধী দলের নেতারা। সিপিআই নেতা ডি রাজা জানিয়েছেন, সকলে শীর্ষ আদালত চত্বর অবধি গেলেও শেষে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দশজনের একটি প্রতিনিধি দল সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন জমা দেবেন।
এদিকে একই সময় সাংবাদিক সম্মেলন করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ চক্রান্তের তোপ দাগল বিজেপি। গেরুয়া নেতা শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, “দেশের সংবিধানকে অপমান করা হচ্ছে। বিদেশি শক্তি হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে ইন্ডি জোট।” এখানেই না থেমে গেরুয়া নেতা দাবি করেন, অতীতে রাহুল গান্ধী বলেছেন যে তাদের লড়াই শুধু বিজেপির সঙ্গে নয়, রাষ্ট্রশক্তির সঙ্গেও। শিবরাজ হুঙ্কার দেন, “এই ধরনের কাজের জন্যই ভবিষ্যতে কংগ্রেস মুছে যাবে।” এদিকে এক্স হ্যান্ডেলে রাহুল গান্ধীর হুঁশিয়ারি, “শিবের তাণ্ডব নৃত্য শুরু হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় কোনও পরিকল্পনা থাকে না। এটা শিবের মিছিল। যে কেউ আসতে পারেন। আমি কাউকে আটকাব না”
