
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে গিয়ে কয়েকটা দিন শান্তিতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে চাইছেন? অথচ কোথায় যাবেন, তা নিয়ে এখনও দ্বিধায়? ছুটির গন্তব্যের তালিকায় এ বার যোগ করতে পারেন তুরিবাড়ির নাম। শহরের একঘেয়ে কর্মব্যস্ততা, যানজট আর কোলাহল থেকে একটু দূরে গেলেই মন চায় এমন কোনও নিরিবিলি ঠিকানা, যেখানে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো যায় নিশ্চিন্তে। পাহাড় বা ডুয়ার্সে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা হলেই সাধারণত লাটাগুড়ি, চালসা, মেটেলি কিংবা ঝালংয়ের মতো পরিচিত জায়গার কথাই আগে মনে আসে। ফলে ছুটির মরশুমে সেখানেও পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। কিন্তু চেনা পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে যদি প্রকৃতির আরও কাছাকাছি, নিরিবিলি পরিবেশে কয়েকটা দিন কাটাতে চান, তা হলে তুরিবাড়ি হতে পারে আপনার পরবর্তী ছুটির ঠিকানা।
কালিম্পং ও ডুয়ার্সের সীমানায় অবস্থিত এই জনপদের প্রধান আকর্ষণ হল এর নীরব সৌন্দর্য, শান্তি, সরলতা। সামনে দিয়ে বয়ে চলেছে পাহাড়ি ঘিষ নদী, আর তার ঠিক পেছনেই সবুজ পাহাড়ের সারি। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা চা-বাগান, পাখির কলকাকলি, রঙিন প্রজাপতির আনাগোনা আর নদীপাড়ের নীরবতা শহরের ক্লান্তি নিমেষে ভুলিয়ে দেয়। কোথাও না ঘুরেও শুধু নদীর চরে বসে সময় কাটিয়ে দিলেও মন জুড়িয়ে যায়। তুরিবাড়িকে কেন্দ্র করে আশপাশের বেশ কিছু দর্শনীয় স্থানও সহজে দেখে নেওয়া যায়। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ বাগরাকোটের সর্পিলাকার লুপ ব্রিজ, যা শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ৪১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের মধ্যে সংযোগকারী ৭১৭-এ জাতীয় সড়কের উপর তৈরি এই ব্রিজের সংলগ্ন ভিউপয়েন্টটি ছবি তোলার জন্য দারুণ জায়গা। এর পাশাপাশি নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে ঘুরে নেওয়া যায় বৌদ্ধ মঠ।
প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আরও একটি আকর্ষণীয় পথ হল ছোট ফাগু চা-বাগানের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত রাস্তা, যা পৌঁছে দেয় মিশনহিল ভিউ পয়েন্টে। কাছেই গরুবাথান ব্লকের অন্তর্গত শাখমের জঙ্গলও নজরকাড়া, যেখান থেকে পাহাড়ি প্রকৃতির বিস্তীর্ণ রূপ ধরা পড়ে। হাতে কিছুটা বাড়তি সময় থাকলে এই সফরের তালিকাতেই অনায়াসে জুড়ে নেওয়া যায় সামসিং কিংবা দলগাঁও ভিউপয়েন্ট। যোগাযোগের দিক থেকেও তুরিবাড়ি পৌঁছানো বেশ সহজ। শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার, আর নিউ মাল জংশন থেকে দূরত্ব মেরেকেটে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার। গজলডোবা এবং ওদলাবাড়ি হয়ে সবুজে ঘেরা বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পথটিও বেশ মনোরম। সপ্তাহান্তে দুই থেকে তিন দিনের হালকা ও আরামদায়ক ছুটির জন্য এই পাহাড়ি ঠিকানাটি আদর্শ।
