
নয়াদিল্লি, ৭ অক্টোবর : ঘানার ফোরেন সার্ভিস ইনস্টিটিউটে ভারত, আফ্রিকা ও গ্লোবাল সাউথ নিয়ে বক্তব্যের কথা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। বুধবার দেওয়া ওই পোস্টে তিনি বলেন, বর্তমান অস্থির সময়ে কূটনীতির সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হল প্রতিযোগিতাকে সংঘাতে পরিণত হতে না দেওয়া এবং মতপার্থক্য থাকলেও সহযোগিতার পথ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
জয়শঙ্কর জানান, তাঁর বক্তব্যে ভারতের উন্নয়নযাত্রা এবং অর্থনীতি, পরিকাঠামো, ডিজিটাল ব্যবস্থা, উৎপাদন, উদ্যোগ ও মানুষের আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে। তাঁর মতে, এই পরিবর্তন ভারতকে বিশ্ব বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি করে তুলছে।
জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনের ক্ষমতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বিদেশমন্ত্রী। গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার ভারতের নীতির কথাও জানান তিনি। সহজলভ্য ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সুযোগের পরিসর আরও বিস্তৃত করার উপরও জোর দেন জয়শঙ্কর। আফ্রিকার অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার জন্য ভারত প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
ভারত ও আফ্রিকার তরুণ জনসংখ্যাকে দক্ষ, উৎপাদনশীল এবং ক্ষমতায়িত নাগরিকে পরিণত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী। পাশাপাশি ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং প্রযুক্তির সুফল আরও ব্যাপকভাবে ভাগ করে নেওয়ার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। জ্বালানি, খাদ্য, সার ও অর্থ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন জয়শঙ্কর। গ্লোবাল সাউথের শিল্পায়নের অধিকার থাকা উচিত বলেও তিনি জানান।
ভারতের বিদেশনীতি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন দ্বারা পরিচালিত হয় বলে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, অংশীদারিত্ব এমন হওয়া উচিত, যা দেশের বিকল্পের পরিসর বাড়াবে, সীমিত করবে না। গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভারতের অঙ্গীকারের উদাহরণ হিসেবে জি২০-তে আফ্রিকান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আফ্রিকা ও গ্লোবাল সাউথের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পক্ষে সহায়ক একটি সংস্কার করা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা দেখতে চায় ভারত—পোস্টে জানান বিদেশমন্ত্রী। বাণিজ্য, পরিকাঠামো, সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং পরিচ্ছন্ন শক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের অংশীদারিত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জয়শঙ্করের মতে, আরও সক্ষমতাসম্পন্ন ভারত আরও কার্যকর অংশীদার হয়ে উঠবে।
আক্রায় ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্য এবং ভারতের বন্ধুদের সঙ্গেও সাক্ষাতের কথা আলাদা একটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে জানান জয়শঙ্কর। ঘানায় ভারতকে বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর অংশীদার হিসেবে দেখা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভারত-ঘানা সম্পর্ক আরও গভীর করার ক্ষেত্রে ভারতীয় সম্প্রদায়ের অবদানেরও প্রশংসা করেন বিদেশমন্ত্রী।
