
নয়াদিল্লি, ৭ অক্টোবর : কেরলমে সমবায় সমিতি সংক্রান্ত তিনটি পৃথক কথিত আর্থিক দুর্নীতির মামলায় বুধবার ত্রিশূর, এর্নাকুলাম ও কোঝিকোড়ে প্রায় ২০টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই তিন মামলায় প্রায় ৯২ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ সম্পত্তির হদিস মিলেছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। একই সময়ে অন্য একটি অভিযানে কর্নাটক লোকসেবা কমিশন (কেপিএসসি)-এর নিলম্বিত চেয়ারম্যান শিবশঙ্করাপ্পা এস. সাহুকার এবং কমিশনের সদস্য বি.ভি. গীতাকে গ্রেফতার করেছে ইডি। নিয়োগে অনিয়ম সংক্রান্ত অর্থপাচার মামলায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
বুধবার ইডি জানিয়েছে, আরবান কো-অপারেটিভ সোসাইটি সংক্রান্ত মামলায় পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে ভুয়ো ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে সদস্যদের ক্ষতি করার অভিযোগ রয়েছে। এই মামলায় প্রায় ৫৫ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ সম্পত্তির হদিস মিলেছে। এর্নাকুলাম ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় পাঁচ থেকে ছয়টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে।
থেন্নেলা সার্ভিস কো-অপারেটিভ সোসাইটি সংক্রান্ত দ্বিতীয় মামলায় বেশি সুদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুয়ো ঋণ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই মামলায় প্রায় ১০ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ সম্পত্তি রয়েছে বলে ইডি-র দাবি। কোঝিকোড় ও সংলগ্ন এলাকায় সাত থেকে আটটি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে।
তৃতীয় মামলাটি কুট্টানেল্লুর কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ককে ঘিরে। ব্যাঙ্কের পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে মালিক ও আমানতকারীদের সম্মতি ছাড়াই বন্ধক রাখা সম্পত্তি হস্তান্তরের অভিযোগ রয়েছে। এই মামলায় প্রায় ২৭ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ সম্পত্তির কথা জানিয়েছে ইডি। ত্রিশূর ও সংলগ্ন এলাকায় পাঁচ থেকে ছয়টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কর্নাটকে কেপিএসসি-র নিয়োগে কথিত অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের তদন্তে নিলম্বিত চেয়ারম্যান শিবশঙ্করাপ্পা এস. সাহুকার এবং কমিশনের সদস্য বি.ভি. গীতাকে গ্রেফতার করেছে ইডি। পশু চিকিৎসা আধিকারিক নিয়োগের পরীক্ষায় অনিয়ম এবং অর্থের লেনদেনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই তদন্ত চলছে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, সাহুকারের বেঙ্গালুরুর ডলার্স কলোনির বাড়িতে নতুন করে তল্লাশির পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। একই মামলায় গীতার বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। তদন্তে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঘুষ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, উত্তরপত্রে কারচুপি এবং বেআইনি অর্থ লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই মামলায় কেপিএসসি-র প্রাক্তন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তথা নিলম্বিত আইএএস আধিকারিক জ্ঞানেন্দ্র কুমার গংওয়ার এবং কথিত মধ্যস্থতাকারী বাসবরাজ কান্নালের বিরুদ্ধেও আগে তদন্ত চালিয়েছে ইডি। দু’জনকেই ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই মামলাতেই তদন্ত চলছে।
