kolkata

1 hour ago

Nabanna: বিজেপির স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে নবান্নে, PMO-র পরিচয় কেন? তদন্তে পুলিশ

Akangsha Vidyarthi
Akangsha Vidyarthi

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  ভারতীয় জন সংঘের প্রাক্তন সাংসদ রাম স্বরূপ বিদ্যার্থীর নাতনি বলে পরিচয় রয়েছে আকাঙ্ক্ষা বিদ্যার্থীর। তিনি সংঘের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করেন বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ, কোচবিহারের মাথাভাঙায় এক প্রাক্তন তৃণমূল নেতার আত্মীয় একটি স্কুল তৈরি করছেন। সেই স্কুল নির্মাণে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি জানাতেই পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন আকাঙ্ক্ষা। এর পর দিল্লির বিমানে ওঠেন তিনি। তবে নবান্নে প্রবেশের সময় নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ ঘিরেই তৈরি হয় প্রশ্ন। ওই পরিচয় সত্যি ছিল কি না, তা নিয়েই শুরু হয় তদন্ত। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে আকাঙ্ক্ষা বিদ্যার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে ঘিরে তদন্তে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্যের পর নবান্নে তাঁর প্রবেশ এবং পরিচয় সংক্রান্ত বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ট্রানজিট রিমান্ডে আকাঙ্খাকে হাওড়ায় নিয়ে আসা হয়। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার ৩ অক্টোবর তাঁকে হাওড়া আদালতে পেশ করা হবে। শুক্রবার আকাঙ্খাকে হাওড়ায় নিয়ে আসার পর শিবপুর থানার তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে বছর ৪০-এর অবিবাহিত আকাঙ্খা জানিয়েছেন, তিনি দিল্লির করোল বাগের ভারতীয় জনসংঘের প্রাক্তন সাংসদ রাম স্বরূপ বিদ্যার্থীর নাতনি। প্রসঙ্গত, ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বিজেএসের সাংসদ ছিলেন রাম স্বরূপ বিদ্যার্থী। আকাঙ্খা নিজেও সংঘের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু কেন আকাঙ্খা হঠাৎ নবান্নে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে রাজ্যের পূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন? 

এই প্রশ্নের উত্তরে আকাঙ্খা পুলিশকে জানান, সংঘের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি নানারকম সেবামূলক কাজ করেন। ফলে সারা দেশের মতো এ রাজ্যেও তাঁর প্রচুর পরিচিত লোক রয়েছে। আসানসোলের এক প্রাক্তন তৃণমূলের নেতার আত্মীয় কোচবিহারের মাথাভাঙায় একটি স্কুল করছেন। কিন্তু সেই স্কুলটি করতে বাধা দিচ্ছে স্থানীয় কিছু বিজেপি নেতৃত্ব। আসানসোলের ওই তৃণমূল নেতার আত্মীয় তখন আকাঙ্খার সঙ্গে যোগাযোগ করে। স্কুল করতে যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয় সেজন্য আসানসোলের ওই নেতার দুই আত্মীয়কে নিয়ে নবান্নে মন্ত্রীর কাছে যান আকাঙ্খা। রাজ্যের পূর্ত মন্ত্রী অজয় পোদ্দারের কাছে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সদস্য পরিচয় দিয়ে আকাঙ্খা তাঁকে জানান, বিজেপির নেতারা স্কুল করতে সমস্যা করছে সেই সমস্যা যেন না হয় তা একটু দেখুন। পুলিশের কাছে দেওয়া এই বক্তব্য আদৌ সঠিক কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এ দিকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক জন সদস্য হয়ে কেন আকাঙ্খা এই ধরনের লোকেদের হয়ে আবেদন করছেন তা নিয়েই সন্দেহ হয় রাজ্যর পূর্ত মন্ত্রীর। আকাঙ্খা নবান্ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরই তিনি খোঁজখবর নেন। জানতে পারেন, ভুয়ো পরিচয় দিয়ে আকাঙ্খা নবান্নে প্রবেশ করেছিলেন। এরপরই ওই রাতেই শিবপুর থানায় আকাঙ্খার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে অভিযোগ পাওয়ার পরই আকাঙ্খার মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করতে শুরু করে পুলিশ। নবান্নে নিজের পরিচয় দেওয়ার সময় আকাঙ্খা তার মোবাইল নম্বরটি দেয়। সেই মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করেই পুলিশ জানতে পারে বুধবার রাতে আকাঙ্খা দিল্লির বিমানে উঠে পড়েছে। এরপরই শিবপুর থানার একটি দল আকাঙ্খার মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে দিল্লি রওনা দেয়। সেখান থেকেই বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হন ওই যুবতী। অন্যদিকে যে ২ জনকে নিয়ে আকাঙ্খা সে দিন নবান্নে গিয়েছিলেন, তদন্তের স্বার্থে তাঁদেরকেও খুঁজছে পুলিশ। 

You might also like!