
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুকুর ভরাট ও জলাশয় দখলকে কেন্দ্র করে ফের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত সরকারের আমলে পুকুর বুজিয়ে বহুতল নির্মাণের অভিযোগ আগেই উঠেছিল। এবার কেএমডিএ এলাকায় জলাশয় ভরাটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে পূর্বতন সরকারকে নিশানা করলেন তিনি। কুঁদঘাটে জলাশয় পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে শুভেন্দুর অভিযোগ, পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষেত্রে কোনও খামতি রাখেনি তৃণমূল সরকার। এদিন কুঁদঘাটে দুটি সরোবরের নামকরণও করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, আসন্ন পুরভোটে মানুষের আশীর্বাদ পেলে রাজ্য সরকার ও পুরসভার যৌথ উদ্যোগে নাগরিকদের নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
সোমবার জলাশয় পুনরুদ্ধারের বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয় কলকাতা পুরসভা ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়দের সঙ্গে নিয়ে এদিন কুঁদঘাটে দু’টি জলাশয়ে পুনরুদ্ধার করে উদ্বোধন করেলন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এদিন অনুষ্ঠান থেকেই দুই সরবোরের নামকরণ করেন খোদ শুভেন্দু। একটি ‘শিব সরোবর’, অন্যটির নাম দেন ‘শক্তি সরোবর’। শুভেন্দু বলেন, “বরো ১১-এর ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ইটখোলা ১ ও ২ তে দুটি জলাশয় উদ্ধার করা হল। যা ঘিরে থাকবে সবুজ বেষ্টনী অর্থাৎ পার্ক। যেখানে বৃক্ষরোপন, মর্নিং ও ইভনিং ওয়াকারদের জন্য থাকবে হাঁটার বিশেষ রাস্তা তৈরি করা হবে। জলাশয়ে হবে মাছচাষ।” এদিনের জলাশয় পুনরুদ্ধার অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়েই বিগত সরকারকে বিঁধে কড়া আক্রমণ করেন শুভেন্দু। বলেন, “তৃণমূল সরকারের আমলে কেএমডিএ এলাকায় ৫ হাজার পুকুর বুজিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরিবেশ ধ্বংস করতে যা করার সব করেছে তৃণমূল।”
সোমবার অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং বিধায়ক শর্বরীকে বাহবা দেন তিনি। অগ্নিমিত্রার উদ্দেশে তিনি বলেন, “কিছু লোক আছে, যারা কিছু করেনি। অথচ অগ্নিমিত্রা পাল প্রো অ্যাক্টিভ কাজ করেন। উনি অফিসেও থাকেন। রাস্তাতেও থাকেন। তা দেখে ওদের খুব জ্বালা যন্ত্রণা। হাতে মোবাইল। সঙ্গে ফেসবুক।” তাঁর পরামর্শ, “ইগনোর দেম। পাবলিকের কাছে ওরা রিজেকটেড। ভবিষ্যতে পুরভোটেও রিজেক্টেড হবে। আপনি চরৈবতি মন্ত্রে এগিয়ে যান।” যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়েরও প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “যাদবপুরটাকে ধীরে ধীরে রাষ্ট্রবাদের লাইনে নিয়ে আসছেন শর্বরী বোন। টুকরে টুকরে গ্যাং খুব ভয় পাচ্ছে শর্বরীদিকে দেখে।” ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া চক্রবর্তীও। একসময় তৃণমূলের দুঁদে নেতা অরূপ বিশ্বাসকে হারিয়ে ভোটে লড়েন তিনি। পাপিয়াকে বিধায়ক হিসাবে বেছে নেওয়ায় সাধারণ মানুষকে ধন্য়বাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।
