
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সিজেপি-র আন্দোলন ঘিরে সকাল থেকেই উত্তপ্ত দিল্লি। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কার্যত দুর্গের চেহারা নিয়েছে রাজধানী। এরই মধ্যে ভোটচুরির অভিযোগ তুলে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে ধরনায় বসে আটক হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে আটক করা হয়েছে তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতাকেও। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং সাখেত গোখেল। জানা গিয়েছে, বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। তবে প্রিজন ভ্যানে করে তাঁকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, পুলিশের গাড়িতে যাওয়ার সময়ও প্রতিবাদ থামাননি মমতা। গাড়ির ভিতর থেকেই ফেসবুক লাইভে এসে ফের কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। পাশাপাশি, সঙ্গে থাকা নেতাদের নিয়ে গান গাইতেও দেখা যায় তাঁকে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ‘আরশোলা’রা। যদিও বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি দিল্লি পুলিশের তরফে। কিন্তু তা সত্ত্বেও যন্তর মন্তরে কর্মসূচি করছে ‘ককরোচ’রা। মধ্য দিল্লির বহু এলাকায় ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’র ১৬৩ ধারা বলবৎ রয়েছে। পুলিশ সতর্ক করে দিয়েছে, এই বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরইমধ্যে শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে পুলিশের ধরপাকড়।
এরমধ্যেই ভোটচুরির অভিযোগে দিল্লির সাউথ অ্যাভিউতে নিজের বাড়ির সামনেই ধরনায় বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গেই ছিলেন দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, শামিরুল ইসলাম, সাকেত গোখেল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানেই পৌঁছে যায় দিল্লির পুলিশের আধিকারিকরা। ধরনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়। কিন্তু তাতে রাজি হননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেই তাঁকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। একইসঙ্গে আটক করা হয় দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, শামিরুল ইসলাম, সাকেত গোখেলকেও।
প্রিজন ভ্যান থেকেই ফেসবুকে লাইভ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, ”প্রথমে আমরা যন্তর মন্তরে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অনুমতি দেওয়া হয়নি। সিজেপি আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু তাঁদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য রাজনীতিবিদদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এরপর বাড়ির সামনেই শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান- বিক্ষোভে বসেছিলাম। কিন্তু সেখান থেকেও আমাদের গ্রেপ্তার করা হল।” শুধু তাই নয়, কোথাও না নিয়ে গিয়ে ৪০ মিনিট ধরে দিল্লির বিভিন রাস্তায় তাঁদের ঘরানো হচ্ছে বলেও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলে রাখা প্রয়োজন, এদিন শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নয়, কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
