
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল বিরোধীরা। তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশকে নোটিস পাঠাল শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার এসআইআর সংক্রান্ত তিনটি মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উঠে আসে। একটি পিটিশনের শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত, তা খতিয়ে দেখবে আদালত। অন্যদিকে, কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানান, একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং সেই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পালটা আবেদনকারীদের আইনজীবী মুক্তা গুপ্তর বক্তব্য, প্রতিবাদের স্থান এমন হওয়া প্রয়োজন, যেখানে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে।
অন্যদিকে, ‘ককরোচ’দের বিক্ষোভে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ক্ষমা চেয়েছেন দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার। হলফনামায় জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ তাঁদের অমান্য করার কোনও প্রচেষ্টা ছিল না। তাঁর বিরুদ্ধে জারি আদালত অবমাননার নোটিসটিও খারিজের করার আবেদন জানিয়েছেন। অনুরাগ জানিয়েছেন, রাইসিনা হিলস থেকে ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কেবল মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছিল। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিক্ষোভ সামাল দিতে দিল্লির ৩০৩টি মেট্রো স্টেশনের মধ্যে কেবলমাত্র ৫৭টি স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বেরোনোর উপর বিধিনিষেধ জারি ছিল। কিন্তু গত ৯ অক্টোবর আদালতের নির্দেশের পর তা কমিয়ে ৪৫টি করা হয়।
এদিকে, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ সংক্রান্ত সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য ডিজিটাল নথিপত্র সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের জানিয়ে দিয়েছে, সেগুলি প্রমাণ হিসাবে আদালতে জমা দেওয়া যাবে। এছাড়া শীর্ষ আদালত সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে যে, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কি আদালতের মৌখিক মন্তব্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, নাকি ওই স্থানের উপযোগিতা নিয়ে আলাদা কোনও মূল্যায়নের ভিত্তিতে? এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের সলিসিটার জেনারেল জানান, এই সিদ্ধান্তটি সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি, বরং আগে গঠন করা একটি কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছিল।
