
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর! আগামী বছর দেশে কর্মরতদের বেতন গড়ে ৯.১ শতাংশ বাড়তে পারে বলে একটি রিপোর্টে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘এওন’। দেশের ৪৫টি শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ১২০০-রও বেশি সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে তারা। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে বিনিয়োগ এবং বিদেশের বাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদাও। এর ফলে সংস্থাগুলির মুনাফা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর সেই আর্থিক বৃদ্ধির সুফল বেতনবৃদ্ধির মাধ্যমে চাকরিজীবীদের কাছেও পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পাশাপাশি ‘এওন’-এর তরফে বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হাতে টাকা থাকলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমস্যা হল দক্ষ কর্মীকে ধরে রাখা। ভারতে চাকরি ছেড়ে অন্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। তাই দক্ষ কর্মীরা যাতে বেশি টাকার প্রলোভনে অন্য সংস্থায় চলে না যায় সেদিকে কড়া নজর কর্তৃপক্ষের। দক্ষ কর্মীদের ভালো বেতনে আটকে রাখতে চেষ্টা করবে সংস্থাগুলি। যা বেতন বৃদ্ধির জন্য সহায়ক দিক। যদিও ওই আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, সব ধরনের চাকরিতে সমান হারে বেতন বাড়ে না। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, তিন ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। যেগুলি হল,
• এনবিএফসি। এগুলি সেইসব আর্থিক সংস্থা যারা মূলত ঋণ দেওয়া বা ফাইন্যান্সের কাজ করে। এই সব সংস্থায় প্রায় ১০.১ শতাংশ হারে বেতনবৃদ্ধি হতে পারে।
• বিদ্যুৎ বা জ্বালানি সংক্রান্ত সংস্থাগুলিতে বেতন বাড়তে পারে ৯.৯ শতাংশ।
• রিয়েল স্টেট বা আবাসন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিতে ৯.৮ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
এওন-এর ট্যালেন্ট সলিউশনস ইন্ডিয়ার পার্টনার এবং রিওয়ার্ডস কনসাল্টিং লিডার রূপাঙ্ক চৌধুরী বলেন, ‘সংস্থাগুলি সকল কর্মীর সমান হারে বেতন বাড়াচ্ছে না। বরং অত্যন্ত হিসেবি পদ্ধতি অবলম্বন করেছে তাঁরা। যে কর্মীরা বিশেষ দক্ষ। যাদের ছাড়া কাজ চালানো মুশকিল। শুধুমাত্র তাঁদের জন্যই বেশি অর্থ খরচ করছে সংস্থাগুলি।
তবে শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাড়বাড়ন্তে চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। ২০২৪ সালে চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের পরিমাণ ছিল ১৭.১ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় ১৬.২ শতাংশ। ২০২৬ সালে সেটাই বেড়ে হতে চলেছে ১৮ শতাংশ।
