
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মুম্বইয়ের অপরাধজগতের কথা উঠলেই মনে পড়ে যায় নয়ের দশকের সেই অন্ধকার অধ্যায়। একসময় ডন ও গ্যাংস্টারদের দাপটে আতঙ্কে থাকত গোটা মায়ানগরী। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সলমন খান, রণবীর সিং কিংবা রোহিত শেট্টির মতো তারকাদের ঘিরে হামলার ঘটনা সেই পুরনো আতঙ্ককেই ফের উসকে দিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম। এবার অভিনেতা টাইগার শ্রফকে ঘিরে হামলার ঘটনায় ফের আলোচনায় এই গ্যাং। ইতিমধ্যেই ওই ঘটনার তদন্তে দশজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তদন্তকারীদের হাতে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা ঘিরে নতুন করে তৎপরতা বেড়েছে পুলিশ প্রশাসনের।
টাইগার শ্রফ হামলা কাণ্ডে গত সোমবারই কোটা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজস্থান পুলিশ। বুধবারই ফের দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার হয় আরও ক’জন। পুলিশি সূত্রে খবর, এদের মধ্যে দু’জন অভিনেতার উপর হামলা চালানোর আগে প্রায় এক মাস মুম্বইতে ছিল। ২ লক্ষ টাকা খরচ করে দাদরের বিভিন্ন এলাকায় লজ বদলে থেকেছে। এমনকী একটি বাজাজ পালসার মোটরবাইকও কিনেছিল। ১১ অক্টোবর ওই দুই হামলাকারী জুহুর সেই ফুটবল মাঠেও যায় যেখানে টাইগার শ্রফ নিয়মিত খেলেন। তবে এই গত একমাসে শুধু জ্যাকিপুত্র নন, বিষ্ণোইরা রেইকি চালিয়েছিল সলমন খান, রণবীর কাপুর এবং আমির খানের বাড়িতেও। তিন অভিযুক্ত ফুল সিং, রেহান আনসারি এবং তাদের সহযোগী ঋত্বিক কুমার ওরফে রোশন রামু মাহাতোকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে যে, টাইগার শ্রফ আসলে এই গ্যাংয়ের মূল লক্ষ্য ছিলেন না। তবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় তাঁকেই হামলার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। জেরার মুখে তারা এও জানিয়েছে যে, নিশানায় অন্য এক তারকা থাকলেও, তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটসাঁট হওয়ায় তাঁর উপর হামলা চালানোর ছক বানচাল করে বিষ্ণোইরা।
গত রবিবার নবরাত্রির আবহে আচমকা টাইগার শ্রফের উপর বন্দুকবাজদের হামলায় কেঁপে ওঠে মায়ানগরী। এদিন ভরসন্ধ্যায় মুম্বইয়ের পুষ্পা পার্কের কাছে বলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য় করে কমপক্ষে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। সেই রাতেই ঘটনার দায়স্বীকার করেছে বিষ্ণোই গ্যাং। বিগত আড়াই দশক ধরে লাগাতার খুনের হুমকি ছুঁড়েও সলমন খানের ‘টিকি’ পায়নি বিষ্ণোইরা। অতঃপর যত্ত রাগ গিয়ে পড়েছে ভাইজান ঘনিষ্ঠদের উপর। বিগত বছরগুলিতে সলমনের কাছের মানুষদের নানাভাবে ধমকে-চমকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে এই নিষিদ্ধ গোষ্ঠী। এবার টাইগার শ্রফের উপর হামলার পর প্রকাশ্যে আরও বিস্ফোরক তথ্য। অভিযুক্তরা এক মাস মুম্বইতে থেকে আমির, রণবীর কাপুর, এমনকী সলমনের বান্দ্রার বাসভবনেও রেইকি চালিয়েছিল।
বুধবারই টাইগার হামলায় অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আরও চারজনকে। তাদের মধ্যে দুই মহিলাও রয়েছে। সূত্রের খবর, রাধা এবং ববিতাকে নিউ দিল্লি রেলওয়ে স্টেশন থেকে অন্যদিকে কুনাল এবং সুমিত নামে দুই ব্য়ক্তিকে হরিয়ানার সোনিপত থেকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কুনাল সম্প্রতি জামিনে জেল থেকে মুক্তি পায় এবং এক বন্ধুর মাধ্যমে বিষ্ণোই সদস্য অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। অভিযোগ, পণ্ডিতের নির্দেশে অমৃতসর থেকে একটি পিস্তল এবং ২০ রাউন্ড গুলি সংগ্রহ করে সে পাচার করেছিল। মাস দুয়েক আগে সেসব অস্ত্র নিয়ে রাধাকে মুম্বই যেতে রাজি করায় কুনাল। এবার বলিউড তারকাদের উপর বিষ্ণোইদের হামলা চালানোর ‘নীল নকশা’ প্রকাশ্যে।
