
কলকাতা, ৫ নভেম্বর : পশ্চিমবঙ্গ-র অন্যতম প্রধান সমুদ্র তটবর্তী পর্যটন কেন্দ্র দিঘা, তাজপুর এবং মন্দারমণিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমুদ্র সৈকতে নজরদারির জন্য অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। এর পাশাপাশি, পর্যটকদের ভিড় বাড়লে ড্রোন-এর মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। সমুদ্রে স্নান করার সময় ক্রমাগত ঘটে চলা দুর্ঘটনা রোধ করতেই প্রশাসন এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, চলতি বছরেই মন্দারমণির সমুদ্রে ডুবে প্রায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, পর্যটকরা বহু সময় নিষেধ ও সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করেই সমুদ্রে স্নান করতে নেমে পড়েন। যার ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিঘার পাশাপাশি মন্দারমণিতেও সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। বিশেষ করে ছুটির দিন ও সপ্তাহান্তে সৈকতগুলোতে ভিড় বহুগুণ বেড়ে যায়।সামনেই ডিসেম্বর মাস, যা পর্যটনের মূল মরসুম। এই সময়ে ছুটি কাটাতে আসা পর্যটক ছাড়াও বহু মানুষ সৈকতের বিভিন্ন অংশে পিকনিক করতে আসেন। এই পরিস্থিতিতে সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার মতো ঘটনা রুখতে আগেভাগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন।
দিঘা থেকে মন্দারমণি পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতে নজরদারির জন্য উদ্ধারকারীর (নুলিয়া) সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দিঘা-শঙ্করপুর, তাজপুর ও মন্দারমণির সৈকতে মোট ১১০ জন উদ্ধারকারী মোতায়েন রয়েছেন, যার মধ্যে ১৪ জন কাজ করছেন মন্দারমণিতে। তবে উদ্ধারকারীর সংখ্যা বাড়ানো সত্ত্বেও প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের সর্বত্র কড়া নজরদারি রাখা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষে বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় হোটেল মালিক সংগঠনগুলোও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এই বিষয়ে। এই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং ভিড় বাড়লে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক অশোক ধূমল জানিয়েছেন, দীঘা ও মন্দারমণিতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে এর জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। পুলিশ উপাধিক্ষক (ডি অ্যান্ড টি) মোহিত মোল্লা জানান, দুর্গাপূজার সময় থেকেই জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সৈকতে উদ্ধারকারীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সমুদ্রের যেসব এলাকা স্নানের জন্য বিপজ্জনক, সেখানে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের সতর্ক করতে সচেতনতামূলক তথ্যফলকও লাগানো হয়েছে। সৈকতের বিভিন্ন অংশে আগে থেকেই কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই আরও নতুন ক্যামেরা যুক্ত করা হবে।
এক উদ্ধারকারী জানান, কিছু পর্যটক চরম অসাবধানতার পরিচয় দেন এবং বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সমুদ্রে নেমে পড়েন। এমনকি তাদের বাধা দিলে বা সতর্ক করলে তারা দুর্ব্যবহার করতেও পিছপা হন না। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে দুর্ঘটনা রোখা কঠিন হয়ে পড়ে।
