Samik Bhattacharya: ‘ডেমোক্রেসির বিকল্প মবোক্রেসি নয়’, কৃষ্ণনগরে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের নিশানা শমীক ভট্টাচার্যের

Samik Bhattacharya
Samik Bhattacharya

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও পদযাত্রা’ কর্মসূচি এবার পৌঁছল কৃষ্ণনগরেও। বুধবার সেখানে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে গেরুয়া শিবির। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কৃষ্ণনগরের পোস্ট অফিস মোড়ে আয়োজিত এই বিক্ষোভে তথাকথিত ‘ককরোচ পার্টি’র নেতাদের কুশপুতুলের পাশাপাশি আরশোলার প্রতীকী মূর্তি দাহ করে প্রতিবাদ জানান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। দেশের অখণ্ডতা ও জাতীয় সংহতি নষ্ট করার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হন দলীয় নেতৃত্ব। সভা থেকে পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ পায়। 

শমীকের অভিযোগ, পরিবারতন্ত্র থেকেই চরম দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের জন্ম হয়, যার প্রভাব বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পড়েছে। কিছু শক্তি বিদেশি মদতে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর সদস্যরা সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাঁর কথায়, “ভারতের গণতন্ত্রের ভিত যথেষ্ট গভীর। কোনওভাবেই ‘মবোক্রেসি’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার শাসন গণতন্ত্রের বিকল্প হতে পারে না।” রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাম ও কংগ্রেসকেও নিশানা করেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী শক্তি হিসেবে বাম ও কংগ্রেস কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। তৃণমূলের দরবারে নিজেদের সঁপে দিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও জনসমর্থন হারিয়ে রাজনৈতিকভাবে সংকটের মুখে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেন শমীক। তিনি জানান, উন্নয়ন ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোই রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। বাংলার মানুষ বোমা-বারুদের রাজনীতি চান না, তাঁরা চান শিল্প, কারখানা ও কর্মসংস্থান। রাজ্যে কাজের সুযোগ তৈরি না হওয়ায় যুবকদের ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কৃষ্ণনগরের সমাবেশ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যে সাধারণ মানুষের অধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লড়াই জারি থাকবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার জেলা কমিটির সদস্য অভিজিৎ দেবনাথ অভিযোগ করেন, দেশের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে কয়েকজন বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। এই ধরনের কার্যকলাপ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এবং বামপন্থীদের সমালোচনা করে তাঁর দাবি, জাতীয়তাবাদী ও সনাতনী সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে দেশবিরোধী শক্তিকে বাংলা তথা দেশ থেকে বিতাড়িত করতে বেশি সময় লাগবে না।


শেয়ার করুন:

You might also like!

    লোড হচ্ছে…