
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আমেজ কাটতে না কাটতেই বাঙালির মনে এবার জায়গা করে নিচ্ছে বছরের পরবর্তী বড় উৎসব কালীপুজো। শারদোৎসবের রেশ পেরিয়ে আলোর সাজে সেজে ওঠার প্রস্তুতি শুরু হতে চলেছে চারদিকে। দুর্গাপুজো থেকে লক্ষ্মীপুজো—একটির পর একটি উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠার পর এবার অপেক্ষা দীপান্বিতা অমাবস্যার। ঘরে ঘরে মা লক্ষ্মীর আরাধনা শেষ হতেই বাঙালির মনে এখন একটাই প্রশ্ন, আর কত দিনের অপেক্ষা? শীঘ্রই প্রদীপের আলো, আলোর রোশনাই আর মা কালীর আরাধনায় উৎসবমুখর হয়ে উঠবে গোটা পশ্চিমবঙ্গ।
দেশজুড়ে অবশ্য দীপাবলির এই আলোর উৎসব চলে টানা পাঁচ দিন ধরে। কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে ‘ধনতেরাস’ দিয়ে যার শুভ সূচনা হয়। সেদিন সোনা-রুপোর গয়না বা নতুন বাসন কেনার ধুম পড়ে যায় সর্বস্তরে। এ বছর আগামী ৬ নভেম্বর, শুক্রবার (২০ কার্তিক) পালিত হবে ধনতেরাস, যার জন্য সোনা কেনার সেরা শুভ সময় ধরা হয়েছে বিকেল ৫টা ২৮ মিনিট থেকে সন্ধে ৭টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত। এর ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ৭ নভেম্বর, শনিবার (২১ কার্তিক) বাংলার ঘরে ঘরে ঘনিয়ে আসবে সেই অদ্ভুত রহস্যময় ও সংস্কারে ঘেরা সন্ধে ভূত চতুর্দশী! ১৪ শাক খাওয়ার পাট চুকিয়ে বাড়ির কোণে কোণে চৌদ্দটি প্রদীপ জ্বালিয়ে অশুভ শক্তিকে দূর করার সেই পুরনো ঐতিহ্য আজও সমানভাবে জীবন্ত। তবে এই পাঁচদিনের মহোৎসবের আসল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু লুকিয়ে রয়েছে তার পরের দিনটিতেই।
আগামী ৮ নভেম্বর, রবিবার (২২ কার্তিক) সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে শুরু হচ্ছে পবিত্র কার্তিক অমাবস্যা তিথি। এই পুণ্য লগ্নেই অন্ধকারের বুক চিরে আলোয় আলোয় সেজে উঠবে গোটা দেশ। অবাঙালিরা যেখানে এই দিনটি লক্ষ্মী-গণেশ পুজোয় মাতেন, সেখানে বাঙালি মানেই তো শ্যামা মায়ের আরাধনা। তবে বহু বাঙালি পরিবারে এই একই দিনে দীপান্বিতা লক্ষ্মীপুজো করারও চমৎকার নিয়ম রয়েছে, যা উৎসবের আমেজকে দ্বিগুণ করে দেয়। ধনতেরাস, ভূত চতুর্দশী ও কালীপুজোর এই বর্ণাঢ্য পর্ব পেরিয়ে উৎসবের এই মহা সমারোহের শেষ হবে সোজা ১০ নভেম্বর, বুধবার (২৪ কার্তিক) ভাইফোঁটা বা ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার সুমধুর স্নেহের বন্ধনে।
