
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকায় ‘রাম নে যাদব কো মারা’—এই বাক্যকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকায় জাতিগত পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলেও তা খারিজ করেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া। সোমবার তাঁর বক্তব্য, কম্পিউটার বা সফটওয়্যারের নিজস্ব কোনও জাতিগত পক্ষপাতিত্ব থাকতে পারে না। পাশাপাশি, কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, ওই নথিতে যদি লেখা থাকত যে ‘রাম কোনও সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে আঘাত করেছেন’, তা হলে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগও উঠত। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যাবতীয় বিতর্ক দানা বাঁধে এক আজব ভুলের জেরে। প্রসঙ্গটি সামনে আনেন আপ-এর রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিং। একটি ভোটার তালিকায় ‘রামহিত যাদব’ ভুলবশত ‘রাম নে যাদব কো মারা’য় পরিণত হয়। এই ঘটনায় প্রশ্ন তোলেন আপ নেতা। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “জ্ঞানেশ কুমারজি, রাম কেন কেবল একজন যাদবকেই আঘাত করল? রাম কেন কোনও সিং, পাঠক, আস্থানা, শর্মা, রাই বা বিস্তকে আঘাত করল না? আপনার কম্পিউটারও কি জাতিবাদী? আপনি কি কোনও রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন?” সোমবার সমাজমাধ্যমে এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদীপ রিনওয়া। তিনি লেখেন, “সাম্প্রতিক বিধান পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় ‘রাম নে শর্মা কো মারা’ -এর মতো একটি অদ্ভুত নাম মিলেছে। মনে রাখতে হবে, কম্পিউটার বা সফটওয়্যার জাতিবিদ্বেষী হয় না।” যদিও ভুল স্বীকার করেও কটাক্ষের সুরে নবদীপ বলেন, “আমরা স্বীকার করছি যে একটি ভুল হয়েছে। সৌভাগ্যবশত সেই ভুলটি করার সময়ও কোনও জাতিগত বৈষম্য ঘটেনি। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে রাম কোনও সংখ্যালঘু ব্যক্তির গায়ে আঘাত করেনি। তা না হলে, জাতিবিদ্বেষের অভিযোগের পাশাপাশি আমাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগও আনা হত।”
সম্প্রতি সিইও-র কার্যালয় বিধান পরিষদ নির্বাচনের একটি ভোটার স্লিপ শেয়ার করে। সেই স্লিপেই ভোটারের নাম লেখা ছিল রবি শর্মা, বাবার নামের জায়গায় লেখা ছিল— “রাম নে শর্মা কো মারা”। নির্বাচনী নথিতে এই ধরনের ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনার বিতর্ক দানা বাঁধে। এইসঙ্গে ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কম্পিউটার সফটওয়্যারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। গত সপ্তাহেই নবদীপ ব্যাখ্যা দেন, সফটওয়্যারটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ইংরেজিতে লেখা নামগুলিকে হিন্দি লিপিতে রূপান্তর করা যায়। তাতেই গোল পাকিয়েছে। যদিও বিরোধী দলগুলি সেকথা শুনতে রাজি নয়।
