
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে আকস্মিক বন্যার জেরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের নদী তীরবর্তী এলাকায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়। তবে সময়মতো সতর্কতা ও প্রশাসনিক তৎপরতার ফলে আপাতত বড় বিপদের আশঙ্কা কেটেছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর আশ্বাস, পরিস্থিতি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। সকলেই নিরাপদে রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর দরবার ছিল। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার আগে শুভেন্দু বলেন, “ভোররাত চারটে পর্যন্ত পুলিশসুপার, মন্ত্রী, বিধায়কেরা কাজ করেছেন। নবান্ন কন্ট্রোলরুমের সঙ্গেও যোগাযোগও ছিল। সংকোশ নদী বিপদসীমার নিচে বইছে। নিখোঁজ হওয়ার যে খবর পাওয়া গিয়েছিল তাও নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। ৪৭ জন নিরাপদেই রয়েছেন।”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর-পশ্চিম ভুটানের গাসা জেলার শিন্তাফু হ্রদে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যা (GLOF) দেখা দেয়। হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসে মফু নদীতে। রাতের অন্ধকারে সেই জলস্রোতের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাসা তশাচু এলাকার একাধিক পরিকাঠামো। ভুটানের এই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয় ভারতেও। মফু নদী হয়ে জল সংকোশ নদীর দিকে এগিয়ে যাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল এবং অসমের একাধিক এলাকায় বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়।
